এক যুগের অপেক্ষা শেষে ম্যানচেস্টার সিটির ডাগআউটে এলো বড় রদবদল। পেপ গার্দিওলার বিদায়ের পর দলের দায়িত্বভার তুলে নিয়েছেন তাঁর সাবেক শিষ্য এনজো মারেসকা। গার্দিওলার ছকে বাঁধা খেলার ধরন বাদ দিয়ে নিজের পছন্দের ফুটবল আদলে দল সাজানোর কাজ শুরু করেছেন মারেসকা, আর তাতে দলবদলের বাজার যেন আগুন হয়ে উঠেছে।
চেলসির চাকরি ছেড়ে বছরের শুরুতেই সিটির সম্ভাব্য দায়িত্বের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মারেসকা। ছয় মাস ধরে তিনি হিসাব কষেছেন কোন খেলোয়াড়কে দলে রাখবেন, কাকে বাদ দেবেন। গার্দিওলার ফেলে যাওয়া কোচিং দায়িত্ব বুঝে নিয়েই তিনি শুরু করেছেন আমূল সংস্কার। যে খেলোয়াড়কে বিক্রি করে অর্থ আদায় সম্ভব, তাঁকে বিক্রি করেছেন; যাঁর জন্য দাম পাওয়া যায়নি, তাঁকে ধারে পাঠিয়েছেন।
সিটির বিদায়ী তালিকাটা বেশ লম্বা। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বেনার্দো সিলভা ও জন স্টোনসকে ফ্রি ট্রান্সফারে ছাড়তে হয়েছে। মাঝমাঠের পুরো ইউনিটই ভেঙে ফেলা হয়েছে। বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় রদ্রি গেছেন বার্সেলোনায় ৬০ মিলিয়ন ইউরোতে, নিকো গঞ্জালেজ ৫৬ মিলিয়ন ইউরোতে নিউক্যাসলে এবং তিজানি রেইঞ্জার্স ৬১ মিলিয়ন ইউরোতে আল-কাদসিয়ায়। গত মৌসুমে নিকো-রেইঞ্জার্সকে ভবিষ্যতের ভরসা হিসেবে দেখছিল ক্লাব, কিন্তু এক মৌসুমের ব্যবধানে দুজনেই অন্য ঠিকানায়।
ডিফেন্স লাইনেও এসেছে বড় পরিবর্তন। নাথান আকে ফেনারবাচে ও ম্যানুয়েল আকাঞ্জি ইন্টার মিলানে গেছেন স্বল্প মূল্যে। ইংলিশ গোলরক্ষক জেমস ট্রাফোর্ডকেও ছাড়তে হয়েছে, জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা আসার পর তাঁর বিদায় প্রায় নিশ্চিত ছিল। ৪৭ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে লিডসে যোগ দিয়েছেন তিনি। আক্রমণভাগের দুই তারকা ওমর মারমুশ ও জ্যাক গ্রিলিশকে বিক্রি করে তেমন দাম মেলেনি, ফলে তাঁদের ধারে পাঠানো হয়েছে যথাক্রমে টটেনহাম ও এভারটনে। এক মৌসুম পর তাঁদের ফেরার সম্ভাবনা আছে, তবে সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলো চাইলে কিনেও নিতে পারবে। যুব দলের খেলোয়াড়দের বিক্রিসহ সব মিলিয়ে সিটির আয় দাঁড়িয়েছে ৩৩৭ মিলিয়ন ইউরো।
দলবদলের শেষ দিনে এসেছে সবচেয়ে বড় চমক। নিজের সাবেক ক্লাব চেলসি থেকে এনজো ফার্নান্দেজকে রেকর্ড ১৪৫ মিলিয়ন ইউরোতে দলে টেনেছেন মারেসকা। প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসের সবচেয়ে দামি দলবদল এখন এটি। শুধু এনজোই নন, পুরো মাঝমাঠ সাজিয়েছেন তিনি নতুন করে। নটিংহাম ফরেস্ট থেকে ২৩ বছর বয়সী এলিয়ট অ্যান্ডারসন এসেছেন ১৩৫ মিলিয়ন ইউরোতে। বিশ্বকাপে নজরকাড়া পারফরম্যান্স করা মরোক্কান মিডফিল্ডার আইয়ুব বুয়াদ্দিকেও হাতছাড়া করেনি সিটি, লিল থেকে তাঁকে আনতে খরচ হয়েছে ৯৫ মিলিয়ন ইউরো। মাঝমাঠের পেছনেই মোট খরচ ৩৭৫ মিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়ে গেছে।
দুই উইংয়ে এসেছে নতুন শক্তি। এভারটন থেকে ইলিমান দিয়ায়ে ৭০ মিলিয়ন ইউরোতে এবং পালমেইরাস থেকে ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার অ্যালান ৩৭ মিলিয়ন ইউরোতে দলে যোগ দিয়েছেন। দ্বিতীয় গোলরক্ষক হিসেবে আর্জেন্টিনার জিরোনিমো রুল্লিও ফিরেছেন সিটিতে। সব মিলিয়ে মোট খরচের অঙ্ক ৫২৬ মিলিয়ন ইউরো।
প্রথম মৌসুমেই এত বড় বিনিয়োগের পেছনে রয়েছে মারেসকার ওপর ক্লাবের অগাধ আস্থা। ছয় মাসের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যাংক ভাঙতেও দ্বিধা করেনি সিটি কর্তৃপক্ষ। যে খেলোয়াড়কে দরকার নেই, তাঁকে শুরু থেকেই বিদায় জানিয়ে দিয়েছেন নতুন কোচ। এখন দেখার অপেক্ষা, এই বিশাল কেনাবেচা মাঠে কতটা কার্যকর হয়।



