ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটে এখন নতুন এক পুরানের উত্থান। নিকোলাস পুরানের পর এবার কামিল পুরান নামের আরেক ক্রিকেটার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন। ৩০ বছর বয়সে এসে ভারত সফরের ওয়েস্ট ইন্ডিজ টি-টোয়েন্টি দলে ডাক পেয়েছেন তিনি। মজার বিষয় হলো, নিকোলাস পুরান মাত্র ২৯ বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছিলেন, আর কামিল পুরান ৩০ পেরিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচনা করতে চলেছেন।

কামিলের ক্যারিয়ার শুরুটা মোটেও তেমন উজ্জ্বল ছিল না। ২০২৩ সালে প্রায় ২৭ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। এরপর লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে নাম লেখান আরও দেড় বছর পর। তবে কোনো সংস্করণেই তেমন সাফল্য পাননি। মাত্র ৮টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ ও ৪টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলেই থেমে ছিল তার ক্যারিয়ার। স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আগে কখনো খেলেননি। এবারের ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) অভিষেক ঘটে তার। দ্বিতীয় ম্যাচে ৩০ বলে ৫৪ রান করেন, চতুর্থ ম্যাচে ৪৯ বলে অপরাজিত ৮১ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেন। পুরো আসরে সেন্ট লুসিয়া কিংসের হয়ে ৮ ইনিংসে ২৭৩ রান তোলেন ৩৯ গড় ও ১৫৯.৬৪ স্ট্রাইক রেটে। এমন পারফরম্যান্সের পরই তাকে দলে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

সংস্থাটি বলছে, ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে উদীয়মান প্রতিভা খুঁজে বের করে বিকশিত করার কৌশলগত উদ্যোগের অংশ হিসেবে কামিলকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এদিকে সিপিএলে দুটি সেঞ্চুরি করে আবারও টি-টোয়েন্টি দলে ফিরেছেন শিমরন হেটমায়ার। তিনি নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে গত জুলাইয়ে শেষ ওয়ানডে ম্যাচে অপরাজিত ৬৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। তবে ভারত সফরে ওয়ানডে দলে রাখা হয়নি তাকে। বোর্ড জানিয়েছে, হেটমায়ার ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, কিন্তু সিপিএলের পর তার বিশ্রাম প্রয়োজন। ফলে তাকে টি-টোয়েন্টিতে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

জেসন হোল্ডারকে দুই সংস্করণের দলেই রাখা হয়নি। ৩৪ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার ২০২৩ সালের জুলাইয়ের পর আর ওয়ানডে খেলেননি। তবে সবশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজে ছিলেন। তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। চোট থেকে সেরে ওঠা ওপেনার জন ক্যাম্পবেল ওয়ানডে স্কোয়াডে ফিরেছেন। তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলা কোয়েন্টিন স্যামসন আবারও সুযোগ পেয়েছেন। চোটের কারণে আকিম ওগিস দলে জায়গা পাননি। দুই সংস্করণেই আছেন ১৯ বছর বয়সী জুয়েল অ্যান্ড্রু, যিনি এক বছর আগে সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে খেলেছিলেন।

দলের নেতৃত্বে থাকছেন শেই হোপ। ভারত সফরকে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন কোচ ড্যারেন স্যামি। তিনি বলেছেন, বিশ্বের সেরা দলের বিপক্ষে খেলা ওয়ানডে দল হিসেবে নিজেদের পারফরম্যান্স উন্নত করার সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে ২০২৭ বিশ্বকাপে খেলার দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য নিয়ে যারা খেলছেন, তাদের মূল্যায়নেরও মঞ্চ হবে এই সিরিজ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওয়ানডে দল সোমবার ভারতের উদ্দেশে রওনা হবে। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে আগামী রোববার থিরুভানান্তাপুরামে। আগামী বছরের বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার শেষ সুযোগ ছিল এই সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচে, কিন্তু ফলাফল যাই হোক, ক্যারিবিয়ানদের সরাসরি জায়গা পাওয়া আর সম্ভব নয়। আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে তারা দশম স্থানে আছে। ভারতকে হারালেও বাংলাদেশকে টপকানো যাবে না, কারণ বাংলাদেশের সরাসরি বিশ্বকাপ নিশ্চিত হয়ে গেছে। ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শেষে ৫ অক্টোবর থেকে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হবে।

ওয়ানডে স্কোয়াড: শেই হোপ (অধিনায়ক), জুয়েল অ্যান্ড্রু, জন ক্যাম্পবেল, কেসি কার্টি, রস্টন চেইস, ম্যাথু ফোর্ড, জাস্টিন গ্রেভস, আমির জাঙ্গু, আলজারি জোসেফ, শামার জোসেফ, ভাইটেল লজ, গুডাকেশ মোটি, কিমো পল, শেরফেন রাদারফোর্ড, জেডেন সিলস। টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড: শেই হোপ (অধিনায়ক), জুয়েল অ্যান্ড্রু, রস্টন চেইস, ম্যাথু ফোর্ড, শিমরন হেটমায়ার, আকিল হোসেন, শামার জোসেফ, গুডাকেশ মোটি, কিমো পল, কামিল পুরান, রভম্যান পাওয়েল, শেরফেন রাদারফোর্ড, কোয়েন্টিন স্যামসন, রোমারিও শেফার্ড, শামার স্প্রিঙ্গার।