যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনবহুল অঙ্গরাজ্য ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যালভিন নিউসোম এক সাহসী ও বিতর্কিত পদক্ষেপ হিসেবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫৪৮ জন বন্দির মৃত্যুদণ্ড বাতিল করেছেন। তিনি এই সকল সাজাকে পরিবর্তন করে প্যারোল বা কারামুক্তির সুযোগহীন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তর করেছেন। এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি একটি চিঠিতে উল্লেখ করেন যে, অপরাধীরা এখন गुमনামতার মধ্য দিয়ে মৃত্যুবরণ করবে, আর সমাজ চিরকাল ভিকটিমদের শ্রদ্ধা ও সম্মানের সাথে স্মরণ করবে।

গভর্নর নিউসোমের মতে, রাষ্ট্র কর্তৃক কাউকে হত্যা করা ক্যালিফোর্নিয়ার মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক এবং এটি আইনি ব্যবস্থার ভিত্তিকে দুর্বল করে। তিনি মনে করেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বর্তমান ব্যবস্থাটি সম্পূর্ণ ব্যর্থ এবং এর ফলে অনেক নির্দোষ ব্যক্তিও দণ্ডিত হয়েছেন। তিনি এই পদক্ষেপকে একটি 'ন্যায়সঙ্গত কাজ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যদিও তিনি স্বীকার করেছেন যে এর ফলে অনেক নাগরিক ক্ষুব্ধ হতে পারেন। তাঁর মতে, নৈতিকভাবে রাষ্ট্র কাউকে হত্যা করতে পারে না, তাই আইনত সর্বোচ্চ সম্ভাব্য শাস্তি হিসেবে প্যারোলহীন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডই কার্যকর করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তটি মূলত প্রতীকী, কারণ ২০০৬ সালের পর থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি। এমনকি ১৯৭৮ সালে ভোটাররা মৃত্যুদণ্ড পুনরায় চালু করার পর থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৩ জন বন্দিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে এই পদক্ষেপের ফলে প্রতি বছর আদালতের বিপুল পরিমাণ আইনি খরচ সাশ্রয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালেও নিউসোম অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ডের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন।

এই পদক্ষেপটি এমন এক সময়ে এলো যখন নিউসোম তাঁর শাসনকালের শেষ দিকে রয়েছেন এবং ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম আলোচিত হচ্ছে। তাঁর পর ডেমোক্র্যাট নেতা জেভিয়ার বেসেরা দায়িত্ব নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্থনি ডি রোমেরো এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি একে বর্ণবাদী ও অমানবিক শাস্তির অবসান এবং প্রকৃত সাহসিকতার পরিচয় হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তবে এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা রয়ে গেছে। ক্যালম্যাটার্স-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, অধিকাংশ ক্ষেত্রে আদালতের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। বিশেষ করে যারা একাধিক গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত, তাদের সাজা পরিবর্তনের জন্য ক্যালিফোর্নিয়া সুপ্রিম কোর্টের সাতজন বিচারকের মধ্যে অন্তত চারজনের সম্মতির প্রয়োজন।

অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্তটি ফেডারেল পর্যায়ের রাজনীতির সাথে সম্পূর্ণ বিপরীত। দীর্ঘকাল ধরে মৃত্যুদণ্ডের সমর্থক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একে নৃশংস অপরাধ দমনের অপরিহার্য হাতিয়ার হিসেবে দেখেন। ২০২৫ সালে তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই তিনি একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ফেডারেল মৃত্যুদণ্ড পুনরায় চালু করেছিলেন, যদিও এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল সরকার এবং স্থানীয় অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ—উভয়েরই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ক্ষমতা রয়েছে।