খুলনায় এক পুলিশ পরিদর্শকের ওপর চাপাতি দিয়ে হামলার ঘটনায় জড়িত প্রধান অভিযুক্ত মিরাজ ওরফে স্পিকার মিরাজ এবং তার সহযোগী ইব্রাহীম গাজীকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বৃহস্পতিবার খুলনা নগরের সোনাডাঙ্গা থানার কলাবাগান এবং খুলনা সদর থানার টুটপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে এসআরবি-৬ স্পেশাল কোম্পানির একটি দল তাঁদের ধরে আনে। গ্রেপ্তারকৃত মিরাজের বয়স ৩৯ বছর এবং সহযোগীর বয়স ৪২ বছর।

এসআরবি-৬ স্পেশাল কোম্পানির পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয় যে, মিরাজের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে খুলনা মহানগর পুলিশের আড়ংঘাটা ও সদর থানায় চুরি, ডাকাতি এবং গুরুতর আঘাতের একাধিক মামলা রয়েছে। অন্যদিকে, ইব্রাহীম গাজীর বিরুদ্ধে খুলনা সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই দুই অভিযুক্তই পুলিশ পরিদর্শকের ওপর হামলার ঘটনার সঙ্গে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।

ঘটনাটি ঘটে গত ৯ অক্টোবর রাতে। খুলনা জেলার সার্কেল অফিসে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলম (৪৩) রিকশায় করে পুলিশ ক্লাবের দিকে যাচ্ছিলেন। কলেজিয়েট স্কুলের সামনে পৌঁছালে তিন ছিনতাইকারী তাঁর পথ রোধ করে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এসময় ছিনতাইকারীরা তাঁর দুই হাতের কবজিতে ধারালো চাপাতি দিয়ে কোপ বসায়, যার ফলে তিনি গুরুতর আহত হন। প্রথমে স্থানীয় বেসরকারি মেডিকেল কলেজ এবং পরবর্তীতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়। হাতের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বর্তমানে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে, যেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এই নৃশংস হামলার প্রেক্ষিতে খুলনা জেলা গোয়েন্দা শাখার উপপরিদর্শক মো. আওয়াল হোসেন খুলনা সদর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর নিরাপত্তা বিবেচনায় খুলনা নগরের পুলিশ সদস্যদের রাতে একা চলাচল না করার নির্দেশনা দেওয়া হয় জেলা পুলিশ। এছাড়া, রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পুলিশ কর্মকর্তাকে দেখতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃত মিরাজ ও ইব্রাহীমকে এখনও থানায় হস্তান্তর করা হয়নি; হস্তান্তর হলে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, এই মামলায় এর আগে আরও দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে একজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং অন্যজন বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছেন। তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মিরাজ ওরফে স্পিকার মিরাজকে এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।