গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস গত বৃহস্পতিবার তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে যে, নেদারল্যান্ডসের একটি সৃজনশীল দল কাঠের জুতার আকৃতির একটি মোটরচালিত যান তৈরি করে বিশ্বের দ্রুততম মোটরচালিত কাঠের জুতার রেকর্ড স্থাপন করেছে। এই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে ২০২৪ সালের ৪ এপ্রিল ব্রেডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনুষ্ঠিত পরীক্ষামূলক চালনার ভিত্তিতে। সেদিন যানটি ঘণ্টায় ১১২ দশমিক ৭৪ কিলোমিটার গতিতে ছুটে পূর্বের সব মাইলফলক অতিক্রম করে।

যানটির বাহ্যিক নকশা দেখলে যে কেউ বিভ্রান্ত হতে পারেন। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, যেন একটি বিশাল আকৃতির ঐতিহ্যবাহী ডাচ কাঠের জুতা রাস্তা দিয়ে দ্রুতগতিতে ছুটে চলছে। কিন্তু এর ভেতরের কাঠামো সম্পূর্ণ ভিন্ন। অভ্যন্তরে লুকিয়ে রাখা হয়েছে একটি ছোট বৈদ্যুতিক গো-কার্টের মূল যন্ত্রাংশ। বাইরের খোলস নির্মিত হয়েছে ফাইবারগ্লাস, পলিয়েস্টার এবং তারের জালের মিশ্রণে। এই উপাদানগুলোর কারণে যানটি দেখতে হুবহু কাঠের জুতার মতো হলেও ওজন ও গঠনগত দিক থেকে এটি একটি আধুনিক যান্ত্রিক বাহন।

রেকর্ড গড়ার দিন প্রকৃতি মোটেও অনুকূলে ছিল না। ব্রেডা বিমানবন্দরের আকাশে প্রবল বাতাস বয়ে যাচ্ছিল, পাশাপাশি থেমে থেমে বৃষ্টিও হচ্ছিল। এমন প্রতিকূল আবহাওয়ায়ও ১০০ মিটার দীর্ঘ একটি নির্দিষ্ট পথে গাড়িটির সর্বোচ্চ গতি পরিমাপ করা হয়। চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দেশটির পরিচিত টেলিভিশন উপস্থাপক ক্লাস ভান ক্রুয়িস্টুম। তাঁকে মোট তিনবার যানটি চালানোর সুযোগ দেওয়া হয়। প্রথম প্রচেষ্টায় গাড়িটির গতি ছিল ঘণ্টায় ৮২ দশমিক ৫১ কিলোমিটার। দ্বিতীয়বারে গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ১১২ দশমিক ৭৪ কিলোমিটারে পৌঁছায়। তৃতীয় ও শেষ প্রচেষ্টায় বেগ ছিল ১১২ দশমিক ৫৪ কিলোমিটার। নিয়মানুযায়ী তিনটি প্রচেষ্টার মধ্যে সর্বোচ্চ গতিটিকেই চূড়ান্ত রেকর্ড হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

এই ব্যতিক্রমী প্রকল্পের পেছনে কাজ করেছেন একদল ডাচ টেলিভিশনকর্মী। তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় ছিলেন যুক্তরাজ্যের কেভিন নিকস, যিনি এর আগে ‘বিশ্বের দ্রুততম বাগানের ঘর’ নির্মাণ করে রেকর্ড গড়েছিলেন। যানটি চালানোর দায়িত্বে থাকা ক্লাস ভান ক্রুয়িস্টুমের টেলিভিশন অনুষ্ঠানের নাম ‘ক্লাস কান আলেস’, যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায় ‘ক্লাস সবকিছু করতে পারেন।’ অনুষ্ঠানের ১১টি মৌসুমজুড়ে দর্শকরা তাঁকে নানা ধরনের অদ্ভুত ও চ্যালেঞ্জিং যানবাহন চালাতে দেখেছেন। তাঁর পূর্ববর্তী অর্জনগুলোর মধ্যে রয়েছে দ্রুততম বাগানের ঘর, দ্রুততম এক চাকার মোটরসাইকেল এবং চার পায়ের রোবোটিক কাঠামো বা টেট্রাপড এক্সোস্কেলেটনের মধ্যে সর্ববৃহৎটির নির্মাণ।

নেদারল্যান্ডসের পথঘাটে ঐতিহ্যবাহী কাঠের জুতা দেখার অভিজ্ঞতা সেখানকার মানুষের কাছে অত্যন্ত পরিচিত। এবার সেই সাংস্কৃতিক প্রতীককেই যান্ত্রিক রূপ দিয়ে নতুন ইতিহাস রচনা হলো। রেকর্ড অর্জনের পর উচ্ছ্বসিত ক্লাস ভান ক্রুয়িস্টুম বলেন, কৌতূহলকে যদি কাজে লাগানো যায়, তবে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দারুণ সব অভিযানে অংশ নেওয়া সম্ভব হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই বিশেষ অর্জনের জন্য তিনি অত্যন্ত গর্বিত অনুভব করছেন।