মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের একটি সাম্প্রতিক অনলাইন পোস্ট ঘিরে কানাডায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কানাডার ক্যাডেট প্রোগ্রামের সদস্যদের উদ্দেশে করা ওই পোস্টে তাদেরকে নাকি বিদ্রূপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন কানাডীয় সরকারি কর্মকর্তারা। তাঁদের মতে, এই আচরণ অত্যন্ত অনভদ্র ও পেশাগত মর্যাদার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
কানাডার একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা প্রকাশ্যে এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, একজন প্রতিরক্ষা সচিবের পক্ষে এমন মন্তব্য করা একেবারেই অনুচিত। এ ধরনের আচরণ দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্যও হুমকিস্বরূপ বলে তাঁরা মনে করছেন। একজন কর্মকর্তা বলেন, 'এটি অফিসের মর্যাদার নিচে' — এমন একটি ঘটনা যা যেকোনো সচেতন নাগরিককে বিব্রত করে।
ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে, তা নিয়ে এখনো সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে হেগসেথের পোস্টটি কানাডার ক্যাডেট প্রোগ্রামের কার্যক্রম বা সদস্যদের নিয়ে কটূক্তি হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। কানাডার প্রতিরক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যকার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বেশ ঘনিষ্ঠ। কিন্তু এই ঘটনা সেই সম্পর্কে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। যদিও হেগসেথের পক্ষ থেকে এখনো কোনো ব্যাখ্যা বা ক্ষমা চাওয়ার বার্তা পাওয়া যায়নি। কানাডার রাজনৈতিক মহল থেকে অবশ্য দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কানাডীয় গণমাধ্যমগুলোতে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে বলছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এমন অপ্রীতিকর মন্তব্য দুই দেশের সাধারণ মানুষের সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এ বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এখন দেখার বিষয়, এই বিতর্ক কি দুই দেশের সম্পর্কে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে, নাকি এটি একটি ক্ষণিকের অপ্রীতিকর ঘটনা হিসেবেই থেকে যায়। কানাডার কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে হেগসেথ শীঘ্রই এই বিষয়ে স্পষ্টীকরণ দেবেন এবং প্রয়োজনে ক্ষমা চাইবেন।




