২০২৫ সালে ম্যাকেঞ্জি স্কট মানবিক কাজে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত দাতব্য উদ্যোগ ইয়িল্ড গিভিংয়ের মাধ্যমে গত বছরে তিনি ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ বিতরণ করেছেন, যা তাকে সেই বছরের সবচেয়ে বড় দাতা হিসেবে চিহ্নিত করে। শুধু গত শরৎকালেই শিক্ষামূলক ও বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি (DEI) বিষয়ক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তিনি ৪০ কোটি ডলারেরও বেশি অনুদান পৌঁছে দিয়েছেন। এসব উপহারের মধ্যে অনেক সংগঠনই তাদের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ অনুদান পেয়েছে। সামগ্রিকভাবে, ইয়িল্ড গিভিং এখন পর্যন্ত হাজার হাজার সংগঠনকে সাহায্য করেছে, যার কাজের ক্ষেত্র শিক্ষাব্যবস্থা, দুর্যোগ পুনরুদ্ধার, ডিইআইসহ আরও বহু সামাজিক খাত জুড়ে বিস্তৃত।
এই বিশাল দানের পরেও স্কটের ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩৭ বিলিয়ন ডলার। ২০১৯ সালে অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি অনলাইন বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৪ শতাংশ শেয়ার পেয়েছিলেন, যা তখন প্রায় ১৩ কোটি ৯০ লাখ শেয়ারের সমান ছিল। প্রতিষ্ঠানটির প্রাথমিক সময়ে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও চুক্তি তৈরিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২০ সাল থেকে তিনি নিজের অংশীদারিত্ব ৪২ শতাংশ কমিয়েছেন—প্রায় ৫ কোটি ৮০ লাখ শেয়ার বিক্রি বা দানের মাধ্যমে ছেড়েছেন। তবুও অ্যামাজনের শেয়ারের শক্তির কারণে তার সম্পদে বড় ধরনের পতন ঘটেনি। বরং তিনি ইতিমধ্যে ইয়িল্ড গিভিংয়ের মাধ্যমে ২৬ বিলিয়ন ডলার দান করেছেন, যা তার প্রাথমিক সম্পদের একটি বড় অংশকে সামাজিক কাজে রূপান্তরিত করেছে।
স্কট মনে করেন, জীবনের গঠনমূলক সময়ে পাওয়া সহায়তা মানুষের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলে। এই বিশ্বাসের পেছনে তার নিজের কলেজ জীবনের একটি ঘটনা গভীরভাবে কাজ করে। প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন এবং সহপাঠীর কাছে ঋণের জন্য হাত পাততে বাধ্য হয়েছিলেন। সেই সময় তার এক সহপাঠী তাকে কাঁদতে দেখে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন এবং ১ হাজার ডলার ঋণ দেন, যাতে তিনি দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে না হন। পরে তিনি নিজের ওয়েব প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে লিখেছেন, দানের এই ধারাবাহিক প্রভাব কল্পনাতীত। তিনি উল্লেখ করেছেন, কলেজে ভাঙা দাঁত ডেন্টার গ্লু দিয়ে আটকে রাখার সময় স্থানীয় এক দন্তচিকিৎসক তাকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়েছিলেন—এই ছোট ছোট করুণার কথা তিনি প্রতিটি দানের সময় মনে রাখেন। একই সঙ্গে সেই সহপাঠীর ঋণের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সেই হাজার ডলার তাকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সক্ষম করেছিল।
প্রিন্সটন থেকে স্নাতক হওয়ার পর স্কট সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিতি পান। তিনি খ্যাতনামা লেখক টনি মরিসনের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং তার শিক্ষায় সাহিত্যচর্চা আরও গভীর হয়। ২০০৫ সালে প্রকাশিত তার প্রথম উপন্যাস ‘দ্য টেস্টিং অব লুথার অলব্রাইট’ ২০০৬ সালে আমেরিকান বুক অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে। মরিসন বইটি সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন, এটি একটি বিরল সৃষ্টি—একটি পরিশীলিত উপন্যাস যা হৃদয়কে ভেঙে ফেলে এবং আবার উজ্জীবিত করে। সম্প্রতি স্কট তার লেখালেখির শিকড়ে ফিরছেন এবং সাবস্ট্যাক প্ল্যাটফর্মে অধ্যায় ধরে ধরে একটি নতুন উপন্যাস প্রকাশ করছেন।
স্কটের সেই কলেজের সহপাঠী ছিলেন জিনি রিঙ্গো টারকেনটন। তিনি দেখেছিলেন, ১ হাজার ডলারের সেই ঋণ স্কটের জীবনে কী ধরনের পরিবর্তন এনেছিল। এই অভিজ্ঞতা তাকে বিশ বছর পর একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত করে—ফান্ডিং ইউ, যা সহ-স্বাক্ষরকারী ছাড়াই কম আয়ের শিক্ষার্থীদের কম সুদে ঋণ দেয়। প্রিন্সটনের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থীকে ৮ কোটি ডলারের ঋণ সরবরাহ করেছে। টারকেনটন অবশ্য নিজের ভূমিকা নিয়ে নম্র। প্রিন্সটন অ্যালামনাই উইকলিকে তিনি বলেন, স্কট হয়তো সেই করুণার অভাবেও স্নাতক হতেন, কারণ যারা সাহায্য পান তারা সাধারণত পরিশ্রমী মানুষ। তবে তিনি যোগ করেন, ছোট ছোট করুণাগুলো একত্রে বড় হয়ে ওঠে—আর ম্যাকেঞ্জির দানের ক্ষেত্রে তা বড় করুণা হিসেবে রূপ নেয়।
স্কটের দানের দর্শন এবং তার নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা মিলে একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়—প্রাথমিক পর্যায়ের সামান্য সহায়তাও দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের বীজ বপন করতে পারে। তার মতে, যেকোনো দয়ার কাজের প্রভাব কল্পনার বাইরে বিস্তৃত হতে পারে, এবং সেই কারণেই তিনি নিজের সম্পদকে সমাজের বিভিন্ন স্তরে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।



