জাতীয় ক্রিকেট লিগের ষষ্ঠ রাউন্ডের শুরুতেই মাঠ কাঁপিয়েছেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান তাইবুর রহমান। রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে খুলনা বিভাগের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে প্রথম দিন শেষে ৫ উইকেটে ৩৬৮ রান সংগ্রহ করেছে ঢাকা বিভাগ। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ঢাকার শুরুটা ছিল বেশ মজবুত। ওপেনার আশিকুর রহমান শিবলি ৫৬ এবং আনিসুল ইসলাম ৪৫ রান করেন, আর তিন নম্বরে আসা ফয়সাল সরকার ৭০ রানের একটি কার্যকর ইনিংস খেলেন। তবে মাঝপথে মার্শাল আইয়ুব ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের দ্রুত পতনের ফলে ঢাকা কিছুটা চাপে পড়ে। সেই সংকটময় মুহূর্তে হাল ধরেন তাইবুর রহমান ও আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। এই জুটি ২০৬ বলে ১৪৪ রান যোগ করে দলের সংগ্রহকে নিরাপদ করে। ১৫২ বলে ১২৮ রানে অপরাজিত থাকা তাইবুর তার এই ইনিংসটিতে ১৫টি চার ও ২ টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন, যা তার প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরি। আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ৫৬ রানে অপরাজিত থাকেন। খুলনার বোলারদের মধ্যে সফর সবচেয়ে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ৪৮ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন।
অন্যদিকে, খুলনা বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে রংপুরের ব্যাটিং বিপর্যয় ঘটিয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগের ২০ বছর বয়সী পেসার সানজিদ মজুমদার। সতেজ ঘাসের উইকেটে রংপুরের কোনো ব্যাটসম্যানই সুবিধা করতে পারেননি। সানজিদ ৪১ রান খরচ করে ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট শিকার করেন, যার ফলে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর মাত্র ১৬৬ রানেই গুটিয়ে যায়। রংপুরের পক্ষে অনিক সরকার সেতু সর্বোচ্চ ২৮ এবং শামস নিলয় ২৩ রান করেন। বাকি ব্যাটসম্যানরা ছোট ছোট ইনিংসে অবদান রাখলেও বড় সংগ্রহের পথ খুঁজে পাননি। প্রথম দিন শেষে ব্যাটিংয়ে নেমে চট্টগ্রাম ১৩ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫৯ রান সংগ্রহ করে, যেখানে সাদ্দাম ৩১ ও সাদিকুর ২১ রানে অপরাজিত।
সিলেট শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে রাজশাহীর বিপক্ষে প্রথম দিন শেষে ৮ উইকেটে ৩২৯ রান তুলেছে সিলেট বিভাগ। দলের হয়ে অধিনায়ক জাকির হাসান ৬৫ এবং আশরাফুল হাসান ৮৩ রান করেন। দ্বিতীয় একাদশ থেকে প্রথমবার সুযোগ পাওয়া মাজহারুল হক ৫০ রানের একটি ইনিংস খেলেন। তবে দিনের শেষ ওভারে নিহাদ উজ জামান আশরাফুল এবং নাঈম আহমেদকে আউট করে হ্যাটট্রিকের সুযোগ তৈরি করে রেখেছেন।
ময়মনসিংহের বিপক্ষে খেলতে নেমে প্রথম দিনে ৬ উইকেটে ২৪৭ রান সংগ্রহ করেছে ময়মনসিংহ বিভাগ। জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ায় মাহফিজুল ইসলাম রবিনের অনুপস্থিতিতে ওপেনার খালিদ হাসান ৭৪ রান করে দলের হাল ধরেন। এছাড়া আলআমিন ৫৪ এবং মোসাদ্দেক হোসেন ৪৭ রান করেন। রনি চৌহান মাত্র ৬ রানে আউট হন। ময়মনসিংহের হয়ে তানভির ৩০.৪ ওভারে ৩ উইকেট নেন।




