পর্তুগাল জাতীয় দলের ক্যাম্প আকস্মিকভাবে ত্যাগ করার ঘটনার বেশ কিছুদিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি বিস্তারিত বিবৃতি দিয়েছেন দলের অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এই দীর্ঘ বার্তার মাধ্যমে তিনি পুরো ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন এবং একই সঙ্গে পর্তুগালের সমর্থক, সতীর্থ ও সাধারণ মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। রোনালদোর মতে, যেকোনো সম্পর্কের ক্ষেত্রে 'সত্য' সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, আর সেই সত্যের অভাবই তাঁকে এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।
বিবৃতিতে ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড জানান, বর্তমান কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে তাঁর শুরু থেকেই সুসম্পর্ক ছিল। ফেডারেশনের সভাপতি যখন তাঁকে জাতীয় দলে থেকে যাওয়ার অনুরোধ করেন, তখন রোনালদো নিজেই কোচ জেসুসকে আদর্শ পছন্দ হিসেবে সুপারিশ করেছিলেন। শুরুর দিকে কোচের সঙ্গে তাঁর আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছিল। কোচ তাঁকে তাঁর পরিকল্পনার অপরিহার্য অংশ হিসেবে গণ্য করেছিলেন এবং নির্দিষ্ট কিছু ম্যাচে খেলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে ডেনমার্ক ও নরওয়ে সফরের বিষয়ে কোচের দেওয়া বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব রোনালদো প্রত্যাখ্যান করেন, কারণ তিনি মনে করেছিলেন অধিনায়ক হিসেবে এমন বিশেষ সুবিধা দলের জন্য ভালো উদাহরণ হবে না।
ঘটনার মোড় ঘোরে নরওয়ের ম্যাচের দিন। রোনালদোর দাবি, কোচ তাঁকে ৩০ মিনিট খেলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যার জন্য তিনি প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের বিরতিতে ওয়ার্মআপ শেষ করার পর তাঁকে মাঠে নামানো হয়নি। কোচের এই প্রতিশ্রুতিভঙ্গ তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। ম্যাচ শেষে সমর্থকদের অভিবাদন না জানানোর জন্য তিনি নিজের ভুল স্বীকার করেছেন এবং এর জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।
এরপর সমস্যা সমাধানে কোচ, সিমো কুতিনিও এবং রোনালদোর মধ্যে একটি বৈঠক হয়। সেখানে একমত হওয়া হয়েছিল যে, কোচ সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ্যে নিজের ভুল স্বীকার করবেন এবং রোনালদোর সঙ্গে হওয়া আলোচনার সত্যতা তুলে ধরবেন। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনের সময় কোচের আচরণ ও কথা সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। রোনালদোর অভিযোগ, কোচ সেখানে আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখান এবং ব্যক্তিগত বৈঠকের কথা পুরোপুরি অস্বীকার করেন। একে তিনি কোচের দেওয়া 'দ্বিতীয় প্রতিশ্রুতিভঙ্গ' হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
রোনালদো জানান, তিনি কখনোই কোনো কোচের কৌশলগত সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেননি, তবে প্রতিশ্রুতিভঙ্গের বিষয়টি মেনে নেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। এই পরিস্থিতির কারণে দলের ক্ষতি এড়াতে তিনি ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যদিও এই পদক্ষেপের জন্য তিনি সতীর্থদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছেন এবং ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে যেকোনো শাস্তি মেনে নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, দলের অধিনায়ক হিসেবে তাঁর দায়িত্ব আরও বেশি এবং নিয়মের ঊর্ধ্বে কেউ নন।
বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে চলমান গুঞ্জন প্রসঙ্গে রোনালদো বলেন, তিনি প্রতিযোগিতায় বিশ্বাসী এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলে পুনরায় জাতীয় দলের হয়ে লড়াই করতে প্রস্তুত। তিনি পর্তুগাল ও তার সমর্থকদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা পুনর্ব্যক্ত করে জানান, দেশের জন্য তিনি সবসময় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত।




