যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার পাঁচটি সড়কের পাশে রোপণ করা ১ হাজার ৫৪টি গাছ কাটার তোড়জোড় চলছে, যা স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই গাছগুলোর মধ্যে নওয়াপাড়া পৌরসভা এলাকার ২৭৫টি গাছ কাটার জন্য বন বিভাগের অনুমোদন পাওয়া গেছে এবং বাকি ৭৭৯টি গাছের অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলমান। এর মধ্যেই পৌরসভার এলাকায় ২৩টি গাছ কাটা হয়ে গেছে।
ঘটনাটি মূলত ১৯৯৩ সালের ১ জুলাই নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ, বেসরকারি সংস্থা ডেভেলপমেন্ট পার্টনার (ডিপি) এবং সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের ৫২ জন নারী সদস্যের মধ্যে সম্পাদিত একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তির ফল। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) সহায়তায় নওয়াপাড়া-সুন্দলী, সুন্দলী-গোবিন্দপুর, সুন্দলী-ডহর মশিয়াহাটি, নওয়াপাড়া বেতার-ধোপাদী এবং নওয়াপাড়া-সরখোলা সড়কের ১৩ কিলোমিটার এলাকায় ২৬ হাজারের বেশি চারা রোপণ করা হয়েছিল। ২০ বছর মেয়াদি এই চুক্তির মেয়াদ ২০১৩ সালে শেষ হলেও গাছগুলোর বয়স এখন ৩০ বছরের বেশি। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, গাছ বিক্রির অর্থের ৬০ শতাংশ নারী সদস্য, ২০ শতাংশ ডিপি এবং ২০ শতাংশ ইউনিয়ন পরিষদ পাবে। বর্তমানে সদস্যদের পাওনা মিটিয়ে দিতেই গাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কাটার তালিকায় থাকা গাছের প্রজাতির মধ্যে মেহগনি ৫৮৫টি, রেইনট্রি ৪৩৪টি, বাবলা ২৪টি, কড়ই ৫টি এবং শিশু ও ইপিলইপিল ৩টি করে রয়েছে। নওয়াপাড়া পৌরসভার ড্রেন নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে কিছু গাছ কাটা হয়েছে। ১ নভেম্বরের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অনেক গাছের গায়ে লালকালি দিয়ে ক্রমিক নম্বর লেখা হয়েছে, যা বিক্রির প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়।
তবে এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করছেন স্থানীয়রা। সুন্দলী গ্রামের শিক্ষক কানু বিশ্বাস এবং ভবদহ পানিনিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদের মতে, ভবদহ জলাবদ্ধ অঞ্চলের এই গাছগুলো বর্ষাকালে মাটির ক্ষয় রোধ করে সড়ক রক্ষা করে। গাছ কাটা হলে পানির তোড়ে রাস্তা ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়বে এবং এলাকাটি বিরানভূমিতে পরিণত হবে। তাদের দাবি, সরকারি কোনো উৎস থেকে নারী সদস্যদের পাওনা মিটিয়ে দিয়ে গাছগুলো রক্ষা করা উচিত।
অন্যদিকে, প্রশাসনিক স্তরে মতের ভিন্নতা দেখা গেছে। নওয়াপাড়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ সালাউদ্দীন জানিয়েছেন, শুরুতে বিষয়টি পুরোপুরি না বুঝেই তিনি বন বিভাগের কাছে অনুমতি চেয়েছিলেন। তবে এখন তিনি উপলব্ধি করেছেন যে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এই গাছগুলো অপরিহার্য, তাই তিনি আর গাছ কাটতে দিতে চান না। যদিও ডেভেলপমেন্ট পার্টনারের নির্বাহী পরিচালক কানিজ শবনম জানিয়েছেন, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের শর্ত অনুযায়ী একটির বদলে তিনটি গাছ লাগানোর প্রতিশ্রুতিতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, কিন্তু ইউএনওর অসম্মতির কারণে বর্তমানে বিক্রি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যশোর সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা অমিতা মণ্ডল নিশ্চিত করেছেন যে, মূল্য নির্ধারণ এবং নতুন গাছ লাগানোর শর্তসাপেক্ষে এই অনুমোদনের প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে।




