মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান নিয়ে মস্কো ও কিয়েভে পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন। গত শুক্রবার নিজেই এ কথা জানান ট্রাম্প। চার বছর ধরে চলা এই সংঘাত থামানোর জন্য একটি পরিকল্পনা তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। যুদ্ধবিধ্বস্ত কিয়েভে এটি হবে দুই দূতের প্রথম সফর। এর আগে তাঁরা মস্কো সফর করেছেন বলে আলোচনায় রাশিয়ার পক্ষ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

শান্তি পরিকল্পনার বিস্তারিত কিছু না জানালেও ট্রাম্প বলেছেন, ‘শান্তির জন্য আমাদের একটি পরিকল্পনা আছে।’ ইউক্রেনের কোনো ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি। তবে যুদ্ধটিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যকার ‘ব্যক্তিত্বগত সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। তিনি আরও বলেন, ‘আমি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে পাঠিয়েছি। দুজনই দারুণ দক্ষ আলোচক। তাঁরা খুব ভালো কাজ করেছেন। আমরা তাঁদের পাঠিয়েছি, কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায় কি না, তা দেখতে। আর আমাদের তা করতে পারার ভালো সম্ভাবনাও রয়েছে।’

এদিকে, মার্কিন দূতদের এই সফরকে ঘিরে জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব তিনি দিয়েছেন। নিজের নিয়মিত সন্ধ্যার ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমাদের দিক থেকে আকাশপথে কোনো হামলা চালানো হবে না। আর রাশিয়াকেও একইভাবে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ তাদের দিক থেকেও আকাশপথে কোনো হামলা চালানো যাবে না। আলোচনা চালানোর জন্য যতক্ষণ সময় প্রয়োজন, ততক্ষণ এই যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে হবে।’

সফরসূচি নিয়ে ইউক্রেনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, দুই দূত আগামীকাল রোববার কিয়েভ সফর করবেন। তবে এ বিষয়ে ক্রেমলিন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুশনার ও উইটকফ শুক্রবার রওনা হওয়ার কথা ছিল। আজ শনিবার ক্রেমলিনে পুতিনের সঙ্গে তাঁদের বৈঠক হওয়ার কথা। এরপর রোববার কিয়েভে জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তাঁরা।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধ শুরু হয়। গত বছর ক্ষমতায় ফেরার পর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই সংঘাত সমাধানের উদ্যোগ নিচ্ছেন ট্রাম্প। তবে কোন সমঝোতা হতে পারে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। দুই দূতের এই সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে কৌতূহল ও আশা দুই-ই দেখা যাচ্ছে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি স্থায়ী শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়েই মূলত আলোচনা হবে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি।