জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আনা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন তাঁর আইনজীবী সিফাত মাহমুদ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, প্রসিকিউশন যে সমস্ত দালিলিক ও মৌখিক সাক্ষ্য পেশ করেছে, তাতে মানবতাবিরোধী অপরাধ তো দূরে থাক, সাধারণ কোনো ফৌজদারি অপরাধের প্রমাণও পাওয়া যায় না। তা সত্ত্বেও ইনুকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
গত ৩০ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে গত মঙ্গলবার আপিল দায়ের করে ইনুর সম্পূর্ণ খালাস এবং পূর্বের রায় বাতিলের আবেদন জানানো হয়েছে। এই আপিলের প্রেক্ষিতেই বুধবার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আইনজীবীর বক্তব্য সামনে আসে।
আইনজীবী সিফাত মাহমুদ বিস্তারিত জানান, রায়ের সময় ইনুর বিরুদ্ধে আনা মোট আটটি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটি থেকে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হলেও তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এছাড়া প্রতিটি দোষী সাব্যস্ত অভিযোগের জন্য এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষ বা প্রসিকিউশন ইনুর বিরুদ্ধে যেসব প্রমাণ পেশ করেছে, তা যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন তাঁর আইনজীবী। প্রসিকিউশনের দাবি অনুযায়ী, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলা, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথোপকথন, ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে আইনজীবী সিফাত মাহমুদের মতে, এসব রাজনৈতিক আলোচনা বা কথোপকথনকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই এবং এর মাধ্যমে কোনো অপরাধ প্রতিষ্ঠিত হয় না।




