মেধাশক্তি আর প্রবল ইচ্ছাশক্তির জোরে উচ্চশিক্ষার পথে বড় মাইলফলক স্পর্শ করলেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌর এলাকার হেলাই গ্রামের রুকাইয়া পারভীন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে প্রতিটি বিষয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করে অসাধারণ কৃতিত্ব দেখিয়েছেন তিনি। রুকাইয়ার এই পথচলায় বড় ভূমিকা রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্টের ‘অপরাজেয় তারা’ শিক্ষাবৃত্তি। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে এই আর্থিক সহায়তার ফলেই তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তাঁর এই ধারাবাহিক সাফল্য এবং মেধার কথা বিবেচনা করে স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনাতেও এই বৃত্তি বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাস্টটি।

রুকাইয়া পারভীন রকিব মল্লিক ও লাভলী ইয়াসমিন দম্পতির তিন কন্যার মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। তাঁর বাবা রকিব মল্লিক পেশায় একজন ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকচালক। অত্যন্ত সীমিত আয়ের মধ্য দিয়ে তাঁদের সংসার চলে। রুকাইয়ার বড় বোনদের মধ্যে একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত এবং অন্যজন পড়াশোনা করছেন। তিন মেয়ের পড়াশোনার খরচ বহন করা বাবার জন্য ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। বিশেষ করে রুকাইয়া যখন এসএসসিতে দারুণ ফল করেন, তখন তাঁর উচ্চশিক্ষার ব্যয় নিয়ে নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন বাবা। ঠিক সেই সংকটময় সময়ে প্রথম আলো ট্রাস্টের হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় রুকাইয়ার পড়াশোনার বাধা দূর হয়।

২০২৪ সালে কালীগঞ্জের সলিমুন্নেছা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাস করার পর রুকাইয়া সরকারি মাহতাব উদ্দিন ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হন। ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ওই কলেজ থেকেই তিনি সব বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়ে নিজের মেধার প্রমাণ দেন। বর্তমানে তিনি খুলনায় কোচিং করছেন। রুকাইয়া জানান, তাঁর লক্ষ্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এ ভর্তি হয়ে একজন দক্ষ প্রকৌশলী হওয়া। নিয়মিত বৃত্তির কারণে তিনি কোনো আর্থিক বাধা ছাড়াই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মেয়ের এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত বাবা রকিব মল্লিক বলেন, রুকাইয়া ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় অত্যন্ত আগ্রহী এবং তার স্বপ্ন প্রকৌশলী হওয়া। একজন সামান্য ইজিবাইকচালক হিসেবে সংসারের ব্যয়ভার বহন করতেই তিনি হিমশিম খান। এই কঠিন সময়ে ব্র্যাক ব্যাংক এবং প্রথম আলো ট্রাস্ট যেভাবে তাঁর মেয়ের পাশে দাঁড়িয়েছে, তার জন্য তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।