সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী ম্যাচে ভুটানকে ১-০ গোলে পরাজিত করে শুভ সূচনা করল বাংলাদেশ। ম্যাচের ৬৯ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় মোহাম্মদ ইব্রাহিমের একমাত্র গোলে এই জয় নিশ্চিত হয়। শমিত সোমের হেড থেকে পাওয়া বলটি আলতো শটে জালে পাঠিয়ে দলের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন ইব্রাহিম। এই জয়ের ফলে সব ধরনের প্রতিযোগিতার হিসাব মিলিয়ে ভুটানের বিপক্ষে জয়ের সংখ্যা ১৪য় পৌঁছাল বাংলাদেশের। উল্লেখ্য, গত বছরও ভুটানকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।
ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। কোচ টমাস ডুলি একাদশে চমক হিসেবে বিশ্বনাথ ঘোষকে সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে নামিয়েছিলেন। তবে নতুন পজিশনে খেলার অভিজ্ঞতা না থাকায় বিশ্বনাথ বেশ কিছু সুযোগ নষ্ট করেন। ১৮ মিনিটে রাকিবের ক্রস থেকে হেড, ২৫ মিনিটে ফাঁকা পোস্টের সামনে থেকে শট এবং ৩৯ মিনিটে গোলকিপারকে সামনে পেয়েও তিনি লক্ষ্যভ্রষ্ট হন।
ম্যাচ শুরুর আগেই অধিনায়ক তপু বর্মণ ওয়ার্মআপের সময় চোট পেয়ে একাদশ থেকে ছিটকে যান। তাঁর পরিবর্তে মাঠে নামেন কাজেম শাহ এবং দলের নেতৃত্বের দায়িত্ব পান জামাল ভূঁইয়া। প্রথমার্ধে ১২টি শট নিলেও গোল পেতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ। অন্যদিকে ভুটানের আক্রমণ ছিল দুর্বল, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তারা তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবে ৪০ মিনিটে তাদের একটি লক্ষ্যে শট দারুণভাবে রুখে দেন মেহেদী হাসান।
দ্বিতীয়ার্ধে কোচ টমাস ডুলি ফয়সাল আহমেদের বদলে ফাহামিদুল ইসলামকে মাঠে নামান। আক্রমণ কৌশলে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হলেও শুরুতে ভুটানের রক্ষণ ভাঙা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে ৬৯ মিনিটে ইব্রাহিমের গোলে তাদের প্রতিরোধ ভেঙে যায়। গোল খাওয়ার পর ভুটান আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে চাইলেও বাংলাদেশের সতর্ক রক্ষণভাগ তাদের কোনো সুযোগ দেয়নি।
খেলার আগে জাতীয় স্টেডিয়ামে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচের উত্তেজনার রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয় জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। আতশবাজি, লেজার শো এবং ডিজে সঞ্জয় দেবের পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে গ্যালারি। এছাড়া ম্যাচের ১৫ মিনিট আগে বর্তমান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং ২০০৩ সাফজয়ী দলের গোলকিপার আমিনুল হক টুর্নামেন্টের ট্রফি উন্মোচন করেন। আগামী ১১ নভেম্বর একই মাঠে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।




