ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে লিডসের হেডিংলি মাঠে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকালেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক কুসাল মেন্ডিস। দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে ১০০ বলে ১২১ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি, যাতে ছিল ১৪টি চার ও ৩টি ছক্কা। এই ইনিংসটি মেন্ডিসের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এটিই তার প্রথম শতক; এর আগে এই দলের বিপক্ষে তার সর্বোচ্চ স্কোর ছিল অপরাজিত ৯৩ রান এবং টেস্ট ফরম্যাটে সর্বোচ্চ ছিল ৮৬ রান।
মেন্ডিসের এই সেঞ্চুরির পথটি ছিল নাটকীয়। ৯৯ রানে থাকা অবস্থায় ইংল্যান্ডের পক্ষ থেকে 'কট বিহাইন্ড' আবেদন করেন ফিল্ডাররা এবং আম্পায়ার আউট ঘোষণা করেন। তবে দ্রুত রিভিউ নেওয়া ব্যাটসম্যানের জন্য ভাগ্য সহায় হয়; রিপ্লেতে দেখা যায় বলটি ব্যাটে লাগেনি। এই নাটকীয়ভাবে বেঁচে যাওয়ার পরের বলেই চমৎকার একটি চার মেরে কাঙ্ক্ষিত ১০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। শতক করার ঠিক এক বল পরেই আপারকাট শটে তিনি আরও একটি বাউন্ডারি আদায় করে নেন।
ম্যাচের দশম ওভারে নিসাঙ্কা আউট হওয়ার পর ক্রিজে আসেন মেন্ডিস। ইনিংসের শুরুতে তার ব্যাটিং ছিল বেশ সতর্ক এবং মন্থর; প্রথম ১০ বলে মাত্র ৩ রান সংগ্রহ করেন তিনি। তবে ১৫ ও ১৬ নম্বর বলে চার ও ছক্কা মেরে তিনি নিজের আগ্রাসী রূপ দেখাতে শুরু করেন। উইল জ্যাকসকে চার মেরে ৪৭ বলে অর্ধশত পূর্ণ করেন এই কিপার-ব্যাটসম্যান। পঞ্চাশ রানের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন, বিশেষ করে ২৫তম ওভারে টাং-এর বিপক্ষে তিনটি চার ও একটি ছক্কায় রীতিমতো ঝড় তোলেন। পরবর্তীতে টাং-এর বলেই টানা দুটি চার মেরে নব্বইয়ে পৌঁছান তিনি এবং শেষ পর্যন্ত জেমি ওভারটনকে চার মেরে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন।
অবশেষে ৩৬তম ওভারে রেহান আহমেদের লেগ স্পিনে স্লগ-সুইপ করতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ধরা পড়ে ১২১ রানে বিদায় নেন মেন্ডিস। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১২৪ রান করার পর এটিই তার ওয়ানডে ফরম্যাটে দ্বিতীয় শতক। এছাড়া, দীর্ঘ সাত বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ইংল্যান্ডের মাটিতে শ্রীলঙ্কান কোনো ব্যাটারের সেঞ্চুরি এটি। সর্বশেষ ২০১৯ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস ইংল্যান্ডের মাটিতে শতক করেছিলেন।




