ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমাগত আক্রমণ ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে সৌদি আরবের সুরক্ষায় পাশে দাঁড়াচ্ছে মিত্র দেশ তুরস্ক ও পাকিস্তান। মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এই তিন দেশের সামরিক প্রধানরা শিগগিরই একটি উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠকে বসবেন। মূলত সৌদি আরবকে সামরিক ও কৌশলগত সহায়তা প্রদানের উপায়গুলো খতিয়ে দেখতেই এই বৈঠকের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইয়েমেনে সৌদি আরব সমর্থিত সরকারের পাশাপাশি খোদ সৌদি ভূখণ্ডেও হুতিরা বারবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে।
সম্প্রতি হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তারা হুতিদের ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। এই উত্তেজনার মুখে পবিত্র মক্কা, জেদ্দা এবং লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ তেল বন্দর ইয়ানবুসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় জরুরি সতর্কতা জারি করেছে সৌদি প্রশাসন। একই সঙ্গে সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব গ্র্যান্ড মুফতি এক বিবৃতিতে আহ্বান জানিয়েছেন যে, হুতিরা ক্ষমতাচ্যুত না হওয়া পর্যন্ত সেনারা জীবন বাজি রেখে লড়াই চালিয়ে যেতে প্রস্তুত থাকুক।
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের যে ছায়া ছড়িয়েছে, তার প্রভাব পড়ছে জ্বালানি বাজারে। বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের তেল সরবরাহ ব্যবস্থা বর্তমানে হুতিদের হামলার কারণে ব্যাহত হচ্ছে। এই সংকটময় সময়ে সৌদি আরব, পাকিস্তান এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির কাঠামোর অধীনে এক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মক্কা এবং বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনায় হুতিদের চালানো হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এবং তারা সৌদি আরবের আত্মরক্ষার অধিকারকে পূর্ণ সমর্থন করেছেন।
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এই চুক্তির আওতায় যেকোনো একটি সদস্য দেশের ওপর হামলা হলে তা বাকি সব দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হয়। এই চুক্তির ভিত্তিতেই এখন তিন দেশের চিফস অব স্টাফদের একটি জরুরি বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। অন্যদিকে, এই কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দাবি করেছেন যে, হুতিদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ইরানের কোনো সম্পর্ক নেই। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভাষণের পর ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, হুতিরা তাদের নিজস্ব কর্মকাণ্ডের জন্য নিজেরাই দায়ী।




