একটি মোবাইল ফোন চুরি হওয়াকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় দুটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ফলে উভয় পক্ষের প্রায় ১০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত রাজিউড়া ইউনিয়নের জয়রামপুর এবং নিজামপুর ইউনিয়নের নিতাইরচক গ্রামের লোকজনের মধ্যে এই লড়াই চলে বলে নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক।
ঘটনার সূত্রপাত হয় দুই দিন আগে, যখন নিতাইরচক গ্রামের নানু মিয়া নামের এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে একটি মোবাইল ফোন চুরি হয়। অভিযোগ ওঠে যে, এই চুরির ঘটনার পেছনে রাজিউড়া ইউনিয়নের জয়রামপুর গ্রামের এক যুবক জড়িত। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় তীব্র কথা কাটাকাটি। বিরোধের সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষ্যে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এদিন সকালে একটি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন। তবে সেই বৈঠক ফলপ্রসূ হয়নি; উভয় পক্ষের লোকজন সভায় উপস্থিত হওয়ার পরিবর্তে দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন, যার ফলে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
তensions চরম পর্যায়ে পৌঁছালে ওসিসহ পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে এবং সংঘাত থামাতে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের কঠোর হস্তক্ষেপে অবশেষে সংঘর্ষ থামানো সম্ভব হয়। এই ঘটনায় তোফাজ্জুল মিয়া, জিতু মিয়া, আব্দুল আহাদ, আদম আলী, সোহেল মিয়া, সানু মিয়া, নানু মিয়া, লিটন মিয়া, নুরুজ মিয়া, মারাজ মিয়া, হাবিবুর রহমান, এমদাদুল মিয়া, শিষ আলী, পারভেজ মিয়া, বিলাল মিয়া এবং আক্কাস মিয়া নামের আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আরও অনেক আহত ব্যক্তির নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
ওসি জাহিদুল হক জানিয়েছেন যে, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে আবারও যেন সংঘাতের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে লক্ষ্যে ওই এলাকায় সতর্কতামূলক পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।




