ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের স্নাতকোত্তর এবং দীর্ঘ ১০ বছর দেশ টিভির শিল্পনির্দেশক হিসেবে কর্মরত শিল্পী শেখ মেহেদী কামালের দ্বিতীয় একক চিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। গ্যালারি চিত্রে আয়োজিত এই প্রদর্শনীর নাম দেওয়া হয়েছে 'অনল কাব্য'। আগামী ২২ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শিল্পপ্রেমীদের জন্য এই প্রদর্শনীটি খোলা থাকবে। বিশিষ্ট শিল্পী অধ্যাপক নিসার হোসেন এই প্রদর্শনীর কিউরেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মেহেদী কামালের এই প্রদর্শনীটি বিশেষ নজর কাড়ছে তার ব্যবহৃত অভিনব ও অপ্রচলিত মাধ্যমের কারণে। শিল্পী এখানে মূলত দুটি ভিন্ন কৌশলে কাজ করেছেন। প্রথমটি হলো 'পাইরোগ্রাফ', যেখানে মোটা কাগজে রাসায়নিক প্রয়োগ করে এবং লোহার নিডল বা চাতাল ব্যবহার করে রেখাঙ্কন করা হয়। সাধারণত কাঠ বা চামড়ায় নকশা করতে এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হলেও শিল্পী এটিকে কাগজে প্রয়োগ করেছেন। দ্বিতীয় পদ্ধতিটি অনেকটা জলরঙের মতো, যেখানে ওয়াশ ব্যবহার করে টোনের ভিন্নতা আনা হয়। তবে এই দুই মাধ্যমেরই সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো, আগুনের আঁচ প্রয়োগ করার পরেই কেবল ছবিগুলো দৃশ্যমান হয়। এই পদ্ধতিতে একবার কাজ শুরু করলে তা সংশোধন করার সুযোগ প্রায় থাকে না, ফলে রেখার গতি ও আগ্নেয়তাপে সৃষ্ট প্রভাবই ছবির পূর্ণতা দান করে।

শিল্পী মেহেদী কামালের শৈল্পিক যাত্রায় জলরঙের বিশেষ দক্ষতা রয়েছে, যা তিনি দক্ষ শিল্পী অলোকেশ ঘোষের তত্ত্বাবধানে প্রকৃতির মাঝে অনুশীলন করে অর্জন করেছেন। তবে বর্তমান প্রদর্শনীতে তিনি আগুনের উত্তাপকে কবিতার মতো অনুভূতি হিসেবে দেখেছেন, যেখান থেকে 'অনল কাব্য' শিরোনামটি এসেছে। প্রদর্শনীতে থাকা 'আগুনপাখি' নামক চিত্রকর্মটি রূপকথার গল্পের কথা মনে করিয়ে দেয়। অন্যদিকে 'অনলে প্রকৃতি' সিরিজের ছবিতে মানুষ ও প্রকৃতিকে প্রথাগত কাঠামোর বাইরে ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন করা হয়েছে।

মানুষের জীবনসংগ্রাম এবং মানসিক যন্ত্রণাকে ফুটিয়ে তুলতে শিল্পী পোড়া পদ্ধতির সাহায্য নিয়েছেন। তার 'পোড়া দেহ' ও 'পোড়া মন' শীর্ষক চিত্রকর্মে খিন্ন শরীর ও মনের কষ্টের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। এছাড়া 'আগুনের পরশমণি' নামক শিল্পকর্মে একটি ঘোড়ার প্রতীকের মাধ্যমে মেহনতি মানুষের দৈনন্দিন লড়াই ও সংগ্রামকে চিত্রিত করা হয়েছে, যা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের আবেগকে স্পর্শ করে। শিল্পী রেজাউল হক লিটনও আগুনের তাপে ছবি আঁকেন, তবে মেহেদী কামালের দাবি, তাদের ব্যবহৃত উপকরণ ও প্রয়োগ কৌশল সম্পূর্ণ আলাদা। সমকালীন চারুশিল্পে এই নতুন ধরনের নিরীক্ষা দর্শক ও শিল্পবোদ্ধাদের কাছে এক নতুন অভিজ্ঞতা প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।