বেলজিয়ামের রাজপরিবারে পিতৃত্ব নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়, তবে সাম্প্রতিক এক ঘটনায় গাড়ি বিক্রির পেশা ছেড়ে রাজপুত্রের মর্যাদা পাওয়ার কাহিনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০০০ সালের আগস্টে জন্মগ্রহণ করা ক্লেমঁ ভানদেনকার্কহোভের মা বেলজিয়ান গায়িকা ওয়েন্ডি ভান ওয়ানটেন, যিনি পেশাগত জীবনে আইরিস ভানদেনকার্কহোভ নামেও পরিচিত। ষোলো বছর বয়সে ক্লেমঁ মায়ের কাছে জানতে পারেন যে তাঁর বাবা কোনো সাধারণ ব্যক্তি নন; বরং তিনি বেলজিয়ামের বর্তমান রাজা ফিলিপের ছোট ভাই প্রিন্স লরাঁ।

১৯৯০-এর দশকে প্যারিসে অনুষ্ঠিত একটি ফ্যাশন শোতে প্রিন্স লরাঁর সঙ্গে ওয়েন্ডির পরিচয় ঘটে। সেই সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কিশোর ক্লেমঁ যখন প্রথমবার বাবার প্রকৃত পরিচয় জানতে পারেন, তখনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মেলেনি। পরবর্তীতে চার বছর পর তিনি নিজেই বাবার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। উভয়ের সম্মতিতে সম্পন্ন ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে ক্লেমঁ আদতে প্রিন্স লরাঁর জৈবিক সন্তান। এরপর থেকে পিতা ও পুত্রের মধ্যে শুরু হয় খোলামেলা ও আন্তরিক কথোপকথন।

ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সম্পর্ক নিশ্চিত হওয়ার পরও আইনি স্বীকৃতির জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। প্রায় ছয় মাস আগে নীরবে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে প্রিন্স লরাঁ ক্লেমঁকে নিজের ছেলে হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেন। চলতি সপ্তাহে বিষয়টি জনসমক্ষে আসে। এই স্বীকৃতির ফলে ক্লেমঁ এখন প্রিন্স লরাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তির ক্ষেত্রে তাঁর সৎভাই ও সৎবোনদের সঙ্গে সমান উত্তরাধিকারের অধিকার লাভ করেছেন। প্রিন্সেস ক্লেয়ারের সঙ্গে লরাঁর আরও তিন সন্তান—প্রিন্সেস লুইস, প্রিন্স নিকোলাস ও প্রিন্স আয়মেরিক—এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

তবে রাজপরিবারে ক্লেমঁর ভূমিকা স্পষ্টভাবেই সীমিত থাকবে। তিনি কোনো রাজকীয় ভাতা পাবেন না এবং কোনো সরকারি বা আনুষ্ঠানিক দায়িত্বও পালন করতে হবে না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বেলজিয়ামের সিংহাসনের ওপর তাঁর কোনো অধিকার নেই। বাবার পারিবারিক পদবি ‘সাক্স-কোবুর্গ’ গ্রহণের সুযোগ থাকলেও ক্লেমঁ এখনো তাতে আগ্রহী নন। বরং মায়ের কাছ থেকে পাওয়া ‘ভানদেনকার্কহোভ’ নামটিই ধরে রাখতে চান। তাঁর মতে, এই পারিবারিক নাম ত্যাগ করা মায়ের দীর্ঘদিনের অবদানের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার সামিল হবে।

উল্লেখযোগ্য যে, বেলজিয়ামের রাজপরিবারে এমন ঘটনা প্রথম নয়। প্রিন্স লরাঁর বাবা ও বেলজিয়ামের সাবেক রাজা দ্বিতীয় আলবের্ত দীর্ঘদিন একটি পিতৃত্বের আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন। ২০২০ সালে তিনি স্বীকার করেন যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সূত্রে তাঁর একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। সেই সন্তান ডেলফিন বোয়েল দীর্ঘ আইনি সংগ্রামের পর রাজকন্যার মর্যাদা লাভ করেন এবং বর্তমানে ডেলফিন দ্য সাক্স-কোবুর্গ নামে পরিচিত। সিএনএনের বরাত দিয়ে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ক্লেমঁ সম্প্রতি ২৬ বছর বয়সে গাড়ি বিক্রির পেশা ছেড়ে রাজপুত্রের পরিচয়ে নতুন জীবনের সূচনা করেছেন। তাঁর মায়ের নাম ওয়েন্ডি ভান ওয়ানটেন এবং তিনি বেলজিয়ান গায়িকা হিসেবে পরিচিত।