বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে আগামী ডিসেম্বরে। এই চুক্তির নবায়ন এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে নিশ্চিত করেছে নয়া দিল্লি। শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই তথ্য জানান।

ব্রিফিং চলাকালীন সাংবাদিক গৌতম লাহিড়ির প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল জানান, পানিসংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য দুই দেশের একটি যৌথ নদী কমিশন রয়েছে এবং কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকগুলো নিয়মিতভাবে চলবে। উল্লেখ্য, চুক্তি নবায়নের প্রক্রিয়ায় প্রথমে প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং পরবর্তীতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীদের স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয়।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের সঙ্গে এই পানি বণ্টন চুক্তিটি সম্পন্ন করে। এই সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, প্রতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ফারাক্কা বাঁধ থেকে দুই দেশের মধ্যে পানি বণ্টন করা হয়। ৪০ বছরের গড় পানির মাত্রার ভিত্তিতে ভারত তাদের অংশ পায় এবং চরম সংকটের সময়ে বাংলাদেশকে ন্যূনতম ৩৫ হাজার কিউসেক পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়েছিল।

তবে চুক্তির এই ৩০ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার মুহূর্তে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিশেষ করে বিহার রাজ্যে ভিন্ন মত দেখা দিয়েছে। বিহারের ক্ষমতাসীন দল জেডি(ইউ)-এর রাজ্যসভার সংসদ সদস্য সঞ্জয় ঝা এই চুক্তি নবায়ন না করার দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী ও পানিসম্পদমন্ত্রী বিজয় কুমার অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান চুক্তিতে বিহারের স্বার্থ যথাযথভাবে রক্ষা করা হয়নি। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বিহারের এই উদ্বেগগুলো বিবেচনায় নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, ভারত এই চুক্তিটি নবায়ন করবে বলে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ। গত ৯ জুলাই এক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ আশা প্রকাশ করেন যে, গঙ্গার পানির গুরুত্ব এবং চুক্তির প্রয়োজনীয়তা ভারত উপলব্ধি করবে। তিনি বিশ্বাস করেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের কথা মাথায় রেখেই নয়া দিল্লি একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে, যাতে দুই দেশের বন্ধুত্বের কোনো ক্ষতি না হয়।