এশিয়ান গেমসের নারী ফুটবল ইভেন্টে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেও হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা হলো বাংলাদেশের। ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে ফিফা র্যাংকিংয়ে ৮৮ ধাপ এগিয়ে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ৬-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এর আগে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলে উড়ে গিয়েছিল মেয়েরা।
প্রতিপক্ষের শক্তি, র্যাংকিং ও অভিজ্ঞতার নিরিখে বাংলাদেশের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া। পাঁচবার বিশ্বকাপ খেলা দলটি এশিয়ান গেমসে নয়বার অংশ নিয়ে তিনটি ব্রোঞ্জপদক জয় করেছে। প্রথম ম্যাচের মতো আজ আর পুরোপুরি তারুণ্যনির্ভর একাদশ সাজাননি বাংলাদেশের কোচ পিটার বাটলার। শুরু থেকেই রুপনা চাকমা, ঋতুপর্ণা চাকমা, শিউলি আজিম ও শামসুন্নাহারকে মাঠে নামান তিনি। ঋতুপর্ণাকে আজ শুরু থেকেই সুযোগ দেওয়া হয়।
ম্যাচের প্রথম ১৫ মিনিটে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বেশ ভালোই লড়াই করেছে বাংলাদেশ। তবে সময় যত গড়িয়েছে, ততই আক্রমণের ধার বেড়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার। বাংলাদেশও ধীরে ধীরে রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে সরে আসতে থাকে। ১৬তম মিনিটে কিম মিনজির গোলে এগিয়ে যায় দক্ষিণ কোরিয়া। বিরতির ঠিক আগে ৪২তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জং দাবিন।
উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে প্রথমার্ধের তুলনায় আজ অনেক উন্নত পারফরম্যান্স ছিল বাংলাদেশের। গোল করতে না পারলেও প্রতিপক্ষকে আটকে রাখার চেষ্টা প্রশংসনীয় ছিল। প্রথমার্ধেই চারটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন গোলকিপার রুপনা। দক্ষিণ কোরিয়ার দুটি শট রুখে দেন বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা। তবে গোলমুখে কোনো শট নিতে পারেনি বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়ার্ধেও একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে যায় দক্ষিণ কোরিয়া। বাংলাদেশের রক্ষণভাগ বেশির ভাগ সময় সেগুলো সামলে দিলেও গোলের স্রোত আটকানো যায়নি। ৬৫তম মিনিটে চোয়ে ইউরির গোলে ব্যবধান বেড়ে যায় ৩-০। ম্যাচের শেষ দিকে বাংলাদেশের মেয়েদের মধ্যে ক্লান্তি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। রক্ষণে বারবার দেখা যায় ছন্নছাড়া অবস্থা। সেই সুযোগে ৭৭তম মিনিটে জি সো-ইউন চতুর্থ গোল করেন। দুই মিনিট পরই হিয়ন সুলগির গোলে ব্যবধান হয় ৫-০। যোগ করা সময়ে কো ইউজিন দলের হয়ে ষষ্ঠ গোলটি করেন।
ম্যাচে বল দখলে ছিল বাংলাদেশের মাত্র ৩০ শতাংশ। প্রতিপক্ষের গোলমুখে মাত্র একটি শট নিতে পেরেছে তারা। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার ছয়টি শট ঠেকিয়েছেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক রুপনা। গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচেই হারের ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথ অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়ল বাংলাদেশের। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মিয়ানমারের মুখোমুখি হবে দলটি।




