ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আহ্বায়ক অভিজিৎ দিপক আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, শুক্রবার বিকেলে দিল্লির কনট প্লেসে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর পূর্বেই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, তাঁর চারপাশে সাদা পোশাকের পুলিশ এবং নম্বরপ্লেটহীন গাড়ির সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে। এমনকি তাঁর বাড়ির রক্ষীদের সঙ্গেও পুলিশের কথা বলার ঘটনা ঘটছে। দিপকের দাবি, তিনি যেখানেই যাচ্ছেন, সেখানে তাঁকে অনুসরণ করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, জাতীয় পতাকা ওড়ানোর অপরাধে যদি তাঁকে কারাবাস করতে হয়, তবে তিনি তার জন্য প্রস্তুত।

গতকাল দুপুরে দিল্লির প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিজিৎ দিপক জানান, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, বাম ছাত্রসংগঠনের নেতা-নেত্রী এবং সমমনা সংগঠনগুলোর সাথে নিয়ে শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে তেরঙা পতাকা ওড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। যারা উপস্থিত হতে পারবেন না, তাদের নিজ নিজ এলাকায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের অনুরোধ করেন তিনি। এই কর্মসূচির বিষয়ে কনট প্লেসের ব্যবসায়ীরা দিল্লি হাইকোর্টে মামলা করলেও আদালত কোনো নিষেধাজ্ঞা দেননি। তবে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, এই সমাবেশের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং বড়জোর খুব ছোট একটি দলকে পতাকা তোলার সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। শুক্রবার ও শনিবার সেন্ট্রাল পার্ক সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেখানে ছয় হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করার পাশাপাশি মধ্য দিল্লির বিভিন্ন রাস্তায় মোট ৩২ হাজার পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী রাখা হয়েছে। এছাড়া ভারতীয় ন্যায়সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করায় চার বা তার বেশি মানুষের একত্রিত হওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পুলিশের এই কঠোর পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ১০ অক্টোবরের কর্মসূচির কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, তখন গোটা দিল্লি অবরুদ্ধ করা হয়েছিল এবং বিভিন্ন রাজ্য থেকে আধা সামরিক বাহিনী আনা হয়েছিল। এমনকি ইন্টারনেট পরিষেবা এবং গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি জানতে চান, সরকার তেরঙা পতাকাকে কেন এত ভয় পাচ্ছে এবং কেন তাঁর দলের সদস্যদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, ভারতের কোনো প্রধানমন্ত্রী আগে জাতীয় পতাকা ওড়াতে বাধা দেননি, তাই বর্তমান পরিস্থিতি দেশদ্রোহিতার শামিল।

অভিজিৎ দিপক আরও অভিযোগ করেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশন থেকে জ্ঞানেশ কুমারকে সরিয়ে নিরপেক্ষ কাউকে নিয়োগ করার দাবি জানানোর কারণেই সরকার তাঁদের দমন করার চেষ্টা করছে। তিনি এই পরিস্থিতিকে 'জরুরি অবস্থা'র সঙ্গে তুলনা করেন। মহাত্মমা গান্ধী ও আম্বেদকরের আদর্শের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে পতাকা উত্তোলন করা তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার। অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ সকালে জানিয়েছে যে, আপাতত মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার পরিকল্পনা নেই, তবে পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।