ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এক সহযোগী অধ্যাপক তাসনীম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে বৈষম্যমূলক ও বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ তুলে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার দুপুর ১২টায় বিভাগের শ্রেণিকক্ষে স্নাতকোত্তর শেষ সেমিস্টারের একদল শিক্ষার্থী এই কর্মসূচি পালন করেন। প্রতিবাদ জানানোর অংশ হিসেবে তারা মুখে কালো কাপড় বেঁধে এবং লাল কার্ড প্রদর্শন করে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, অধ্যাপক তাসনীম সিরাজ মাহবুব শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সাথে অন্যায়, দ্বিচারী ও বর্ণবাদী আচরণ করে আসছেন। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মো. নাইম হোসেন জানান, গত ৭ অক্টোবর ইংরেজি বিভাগের একটি ক্লাসে এক ছাত্রীর নিকাব পরা নিয়ে ওই শিক্ষক আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এছাড়া একই বেঞ্চে ছয়জন ছাত্রের বসার বিষয়টি নিয়েও তিনি নেতিবাচক কথা বলেন। পরবর্তীতে ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তা দিলেও তা ছিল একপক্ষীয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাঁর সমমনা শিক্ষকেরা তাঁকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন, যা মেনে নেওয়া যায় না।
এই ঘটনার প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগেও। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুখে কালো কাপড় বেঁধে ছবি পোস্ট করে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ৮ অক্টোবর বিভাগের এক জরুরি সভায় অধ্যাপক তাসনীম সিরাজ মাহবুবকে ক্লাস নেওয়া থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর দায়িত্বপ্রাপ্ত কোর্সগুলো বর্তমানে অন্যান্য শিক্ষকদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক তাসনীম সিরাজ মাহবুব এই বিষয়ে প্রথম আলোর সাথে কথা বলতে চাইলে জানান, এ প্রসঙ্গে তাঁর কোনো বক্তব্য নেই। তবে ১০ অক্টোবর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো শিক্ষার্থীকে নিকাব খুলতে, পোশাক পরিবর্তন করতে বা ক্লাস ত্যাগ করতে বলেননি। বরং শিক্ষার্থীর চোখ দেখা না যাওয়ায় শনাক্ত করতে এবং যোগাযোগ স্থাপন করতে সমস্যা হচ্ছিল, তাই তিনি কেবল নিজের অস্বস্তির কথা জানিয়েছিলেন।
শিক্ষকদের ভিন্নমত প্রকাশের কারণে হেনস্তা এবং শ্রেণিকক্ষে স্বাধীনতার খর্বের প্রতিবাদে গত ১১ অক্টোবর সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা ক্লাসরুমে মুখে কালো কাপড় বেঁধে পাঁচ মিনিটের নীরব প্রতিবাদ জানান। পরে ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে তিনি বিষয়টি তুলে ধরেন। অধ্যাপক সামিনা লুৎফার মতে, তাঁর এই প্রতিবাদের পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবেই শিক্ষার্থীদের বর্তমান কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।




