বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) এবং টিকা-প্রতিরোধযোগ্য রোগের (ভিপিডি) নজরদারি কার্যক্রমের বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং ইউনিসেফসহ একাধিক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা অংশ নিচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে আগামী ৪ অক্টোবর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী মাঠ পর্যায়ে এই পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

ইপিআই ও সার্ভিল্যান্সের সহকারী পরিচালক হাসানুল মাহমুদের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে এই পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে যথাযথ কর্মকর্তাদের মনোনয়নের অনুরোধ জানানো হয়। চিঠির মূল লক্ষ্য হলো দেশের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বর্তমান পরিস্থিতি, অর্জিত সাফল্য এবং বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সমন্বয়ে একটি বিশেষ দল গঠন করা হবে। এই দল আগামী ৬ থেকে ১১ অক্টোবরের মধ্যে দেশের আটটি বিভাগের নির্বাচিত জেলা, উপজেলা এবং নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও টিকাদান কেন্দ্রগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করবে।

ইপিআই-এর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সাব্বির হায়দার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে। দেশের আটটি বিভাগের প্রতিটি বিভাগ থেকে দুটি করে জেলার উপজেলা পর্যায়ের বাস্তব অবস্থা বিশ্লেষণের ওপর তারা গুরুত্ব দেবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নিজস্ব কার্যক্রমের কোনো ঘাটতি আছে কি না এবং বাস্তব ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে, তা নিবিড়ভাবে জানতেই এই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যৌথ পর্যালোচনা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।