ব্রাজিলিয়ান কাপের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে গত বুধবার পালমেইরাসের মুখোমুখি হয় সান্তোস। ভিলা বেলমিরো স্টেডিয়ামে সেই ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হয়। তবে প্রথম লেগে ৩-০ গোলে পিছিয়ে থাকায় দুই লেগ মিলিয়ে ৩-০ ব্যবধানে হেরে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিতে হয় নেইমারের দলকে। খেলার ফলাফলের চেয়ে বেশি নজর কেড়েছে সান্তোসের নিজেদের মাঠের করুণ অবস্থা এবং খেলোয়াড়দের চোটের মিছিল। প্রথমার্ধেই চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয় নেইমারকে। তাঁর সঙ্গে একই পরিণতি হয় সান্তোসের উইঙ্গার আলভারো বারেয়াল ও ডিফেন্ডার লুকাস ভেরিসিমোর। মাঠ ছাড়ার সময় নেইমারকে কাঁদতেও দেখা গেছে।

ম্যাচের এক দিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাঠের অবস্থা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন নেইমার। তিনি লেখেন, ভিলা বেলমিরো স্টেডিয়ামের মাঠের যিনি দায়িত্বে আছেন, তাঁকে অভিনন্দন জানানো উচিত। এরপর আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আগের দিন যা দেখেছেন তা ক্লাবের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ মাঠ। ম্যাচের ঠিক আগের দিন কাজ করার কারণে পুরো মাঠ গর্তে ভরা ছিল, যা ছিল অবিশ্বাস্য। প্রতিপক্ষের পাশাপাশি নিজেদের মাঠের বিরুদ্ধেও লড়তে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ক্ষোভের সেখানেই থেমে থাকেননি ব্রাজিলিয়ান তারকা। মাঠের দুর্বল অবস্থার কারণে দলের অতিরিক্ত শারীরিক শক্তি খরচ হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রথমার্ধেই তিনজন খেলোয়াড় চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ায় তিনি বিস্মিত নন বলে জানান। মাঠের পরিচর্যার কাজকে তিনি 'খুবই নিম্নমানের' আখ্যা দেন।

নেইমারের সেই বক্তব্যের পর পালমেইরাসও চুপ করে থাকেনি। সুযোগ বুঝে নিজেদের মাঠ নুবাঙ্ক পারকের গুণগত মানের প্রশংসা করে এক খোঁচাপূর্ণ বিবৃতি প্রকাশ করে ক্লাবটি। সেখানে বলা হয়, দিন যাই হোক না কেন, ওই মাঠের ঘাস সব সময় নিখুঁত ও গর্তমুক্ত থাকে, কারণ প্রতিদিন এর যত্ন নেওয়া হয়। প্রতিপক্ষকে ভালো মাঠ উপহার দেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের খেলোয়াড়রাও যাতে নিরাপদে দৌড়াতে পারেন, সেদিকেও খেয়াল রাখা হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। গত পাঁচ বছরে সিরি আ-তে পালমেইরাসের খেলোয়াড়দের চোটের সংখ্যা সবচেয়ে কম থাকার বিষয়টিও তারা তুলে ধরে। শেষে বাজে মাঠের একমাত্র সমাধান হিসেবে একটি ভালো মাঠ নির্মাণের কথা বলেন তারা, যাকে 'সহজ বিষয়' বলে আখ্যা দেওয়া হয়।

এদিকে বর্তমানে ব্রাজিলিয়ান লিগ টেবিলের ১৪ নম্বর অবস্থানে রয়েছে সান্তোস। অবনমন অঞ্চল থেকে তাদের দূরত্ব মাত্র চার পয়েন্ট। এই অবস্থায় দলের খেলোয়াড়দের চোট ও মাঠের সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।