ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতা চ্যাম্পিয়নস লিগে তাদের যাত্রা শুরু করেছে ইংলিশ জায়ান্ট লিভারপুল ও আর্সেনাল। পিএসজি এবং বার্সেলোনার বড় জয়ের দিনে এই দুই ক্লাবই তাদের প্রতিপক্ষকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়েছে, যদিও জয়ের ব্যবধান ছিল সামান্য।
অ্যানফিল্ডের মাঠে আতলেতিকো মাদ্রিদের মুখোমুখি হয়েছিল লিভারপুল। ম্যাচের শুরু থেকেই চাপে ছিল তারা, কারণ ১৭তম মিনিটে মার্কোস ইয়োরেন্তের গোলে এক গোলে পিছিয়ে পড়ে অলরেডরা। ইয়োরেন্তের জন্য অ্যানফিল্ড যেন প্রিয় মাঠ; লিভারপুলের শেষ তিন সফরের এটি তাঁর পঞ্চম গোল। ২০২০ সালেও এই মাঠে জোড়া গোল করে লিভারপুলকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করিয়েছিলেন এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার। তবে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি লিভারপুল। ম্যাচের ৪০তম মিনিটে দমিনিক সোবোসলাইয়ের গোলে সমতায় ফেরে তারা।
ম্যাচটির সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল আর্জেন্টাইন তারকা অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের পারফরম্যান্স। চুক্তির নবায়ন নিয়ে ক্লাবের সাথে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছিলেন, ক্লাব তাকে নতুন চুক্তির প্রস্তাব দিতে অসম্মত। তবে মাঠের লড়াইয়ে সেই হতাশাকে শক্তিতে রূপান্তর করেন তিনি। বিরতির পাঁচ মিনিট পরেই বক্সের বাইরে থেকে একটি বুলেটগতির শটে জয়সূচক গোল করেন ম্যাক অ্যালিস্টার, যার ফলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় লিভারপুলের। ২০২৮ সাল পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ এই তারকার এই গোলটি ক্লাবের কাছে তার গুরুত্ব আবারও মনে করিয়ে দিল।
অন্যদিকে, নেপলসের মাটিতে নাপোলিকে ১-০ গোলে হারিয়েছে মিকেল আর্তেতার দল আর্সেনাল। পুরো ম্যাচে গানাররা বেশ কিছু সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করলেও শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের একক নৈপুণ্যে জয় পায়। ডি-বক্সের বাইরে থেকে একটি নিখুঁত বাঁকানো শটে গোল করেন ওডেগার্ড, যা গ্যালারিতে উপস্থিত ১,৫০০ সমর্থককে উল্লাসে ভাসিয়ে দেয়। চলতি মৌসুমে পাঁচ ম্যাচে এটি তার চতুর্থ গোল।
আর্সেনালের এই গোলটি ছিল অত্যন্ত কৌশলগত। গোলটি করার আগে দলের খেলোয়াড়রা টানা ২৯টি পাস আদান-প্রদান করেছিলেন। ২০০৩-০৪ মৌসুমের পর চ্যাম্পিয়নস লিগে আর্সেনালের কোনো গোলের ক্ষেত্রে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাসের রেকর্ড। এর আগে ২০১৬ সালে বাসেলের বিপক্ষে ৩৩টি পাসের পর গোল হয়েছিল। গ্রুপ পর্বের আটটি ম্যাচেই জয়ী হয়ে ফাইনালে উঠেছিল আর্তেতার দল, ইতালির মাটিতে এই জয়ের মাধ্যমে তারা টুর্নামেন্টে দারুণ সূচনা করল।




