মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সুরক্ষা বলয় তৈরি করতে নিজস্ব আর্থিক অবকাঠামো জোরদার করছে চীন। ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে পরিচিত ডলার-নির্ভর ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে ক্রস-বর্ডার আন্তঃব্যাংক পেমেন্ট সিস্টেম (সিআইপিএস) কে এগিয়ে নিচ্ছে বেইজিং কর্তৃপক্ষ।

তবে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, এই বিকল্প পথ নির্মাণের পাশাপাশি মার্কিন ডলারের ওপর চীনের নির্ভরতা কিন্তু এখনো পুরোপুরি কাটেনি। দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্য ও রিজার্ভের বড় একটি অংশ এখনও ডলারেই পরিচালিত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে যেমন ডলারের প্রয়োজন, অন্যদিকে তেমনি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা — এই দুই ধারার সমান্তরালে চলছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার শক্তিশালী আর্থিক নেটওয়ার্কের সুবাদে চীনা ব্যাংকগুলোর ওপর প্রভাব খাটাতে সক্ষম, বিশেষ করে ইরানের মতো দেশের সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রে। ওয়াশিংটন চাইলে চীনা ব্যাংকগুলোকে তাদের বৈশ্বিক ডলার লেনদেন থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার হুমকি দিতে পারে। এই হুমকি মোকাবিলাতেই চীন নিজস্ব পেমেন্ট সিস্টেম চালু ও প্রসারিত করছে।

সিআইপিএস চালু হয়েছে ২০১৫ সালে। ধীরে ধীরে এর পরিধি বাড়লেও আন্তর্জাতিক লেনদেনে এখনো সুইফটের তুলনায় এর অংশগ্রহণ অনেক কম। তবুও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল হিসেবে এই ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দিচ্ছে বেইজিং। বিশেষ করে যে সব দেশ মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে বা পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, তাদের কাছে সিআইপিএস একটি কার্যকর বিকল্প হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মূলত কৌশলগত এই দ্বৈত অবস্থানই এখন চীনের অর্থনৈতিক নীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য — একদিকে বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকতে ডলারের ব্যবহার অব্যাহত রাখা, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন আধিপত্য খর্ব করতে নিজস্ব প্রযুক্তি ও ব্যবস্থা গড়ে তোলা।