টেলিভিশন পর্দার অত্যন্ত জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র 'ছোটকাকু'-র ১৫ বছরের দীর্ঘ পথচলা উদ্‌যাপন করতে আগামী ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার তেজগাঁওয়ের আলোকি মিলনায়তনে এক বিশেষ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। ফরিদুর রেজা সাগরের লেখা এই গোয়েন্দা সিরিজের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় ও পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন আফজাল হোসেন। দুই দিনব্যাপী এই 'ছোটকাকু উৎসব'-এ শিশু-কিশোরদের জন্য শিক্ষামূলক ও বিনোদনমূলক নানা কর্মসূচির পাশাপাশি বড়দের জন্য সেমিনার, আড্ডা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

শনিবার চ্যানেল আই মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উৎসবের বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেন আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। আয়োজক প্রতিষ্ঠান 'মাত্রা'-র ম্যানেজিং পার্টনার সানাউল আরেফিন জানান, শিশুদের কেন্দ্র করে এই ধরনের বড় আয়োজন তাঁদের জন্য প্রথম। উৎসবের দিনগুলোতে শিশুদের জন্য গান ও নাটকের পাশাপাশি ছোটকাকু সিরিজের শিল্পীদের সাথে বিশেষ ক্যাফে আড্ডার সুযোগ থাকবে। এছাড়া উৎসবের জন্য একটি বিশেষ গান তৈরি করা হয়েছে, যা সরাসরি অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আফজাল হোসেন তাঁর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, ছোটবেলায় সাহিত্য ও রূপকথার চর্চা মানুষের কল্পনাশক্তি ও কৌতূহল বৃদ্ধি করত, যা বর্তমান সময়ে অনেকটাই কমে গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর অভিনয়জীবনের ৪০ বছর পূর্ণ হওয়ার পর যখন অভিনয় আর তেমন আকর্ষণ করছিল না, তখন শিশু-কিশোরদের জন্য কিছু করার তাগিদ থেকেই তিনি এই চরিত্রের সাথে যুক্ত হন। ১৫ বছর ধরে এই সিরিজের সাথে যুক্ত থাকার পেছনে তাঁর মূল প্রেরণা ছিল এই দায়বোধ।

অভিনেতা তারিক আনাম খান বলেন, শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশের জন্য শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা অত্যন্ত জরুরি। সাহিত্য থেকে চলচ্চিত্র বা নাটক নির্মাণের যে ঐতিহ্য আগে ছিল, তা এখন হ্রাস পেয়েছে। তাঁর মতে, ছোটকাকু সিরিজের বিশেষত্ব হলো এটি শিশুদের মধ্যে মেধা, বুদ্ধি এবং কৌতূহল জাগিয়ে তোলে। অন্যদিকে, চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তাপ্রধান শাইখ সিরাজ মনে করেন, গত ১৫ বছরে ছোটকাকু একটি স্বতন্ত্র চরিত্রে পরিণত হয়েছে এবং ফরিদুর রেজা সাগরের গল্পের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলার বৈশিষ্ট্য ও নাম দর্শকদের সামনে উঠে এসেছে।

সিরিজের লেখক ফরিদুর রেজা সাগর জানান, প্রয়াত ডক্টর ফজলুল আলম এবং ছড়াকার আমীরুল ইসলাম ছিলেন এই চরিত্রের মূল অনুপ্রেরণা। তিনি আরও বলেন, আফজাল হোসেন চরিত্রের সাথে এতটাই মিশে গেছেন যে সাধারণ মানুষ তাঁকে এখন সরাসরি 'ছোটকাকু' নামেই ডাকেন। এই জনপ্রিয়তাকে কেন্দ্র করেই এবারের উৎসবের পরিকল্পনা। আয়োজকদের ঘোষণা অনুযায়ী, এই উৎসবটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।