গত বছর ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালকের আইফোন ও নগদ টাকা ছিনতাই হয়। পুলিশ দ্রুত তদন্ত করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করে এবং ছিনতাই হওয়া সব জিনিসপত্র উদ্ধার করে। এই ঘটনাটি প্রথমে একজন সাধারণ নাগরিকের মনে কিছুটা আনন্দের সঞ্চার করেছিল, কারণ তিনি ভেবেছিলেন সাধারণ ও অসাধারণ মানুষের মধ্যে আর কোনো পার্থক্য নেই। কিন্তু সেই আনন্দ বেশি ক্ষণ টেকেনি, কারণ পুলিশের দ্রুত সাফল্যে প্রমাণ হয় যে পদ-পদবির কারণে বিশেষ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

বি.সি. নামে এক ব্যক্তি তার নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছেন। প্রায় আড়াই বছর আগে বাসে ওঠার সময় ভিড়ের মধ্যে তার হাত থেকে মোবাইল ফোন ছিনতাই করে নিয়ে যায় এক দুর্বৃত্ত। তিনি সঙ্গে সঙ্গে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পুলিশ তাকে আশ্বস্ত করে জানায় যে তারা ফোনটি খুঁজে বের করে তাকে জানাবে। সেই আশ্বাসে তিনি নিশ্চিন্তে অপেক্ষা করতে থাকেন। কিন্তু দীর্ঘ দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তার ফোনের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ছিনতাইয়ের ঘটনার সময় এক বয়স্ক ব্যক্তি তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিলেন যে ছিনতাইকারী 'ফুনমারি' (ফাঁকি) দিয়ে চলে গেছে। সেই মন্তব্যটি তার মনে গেঁথে আছে। তিনি মনে করেন, ওই বয়স্ক ব্যক্তির কথা অক্ষরে অক্ষরে সত্য হয়েছে। কারণ, তিনি কোনো বিশেষ পদ-পদবির অধিকারী নন, তাই পুলিশ তার ফোন খুঁজতে আগ্রহী হয়নি। এই ঘটনা থেকে তিনি উপসংহার টেনেছেন যে, এই দেশে সাধারণ নাগরিকের অধিকার সবসময় উপেক্ষিত হয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ছিনতাইকারীকে ধরার জন্য পুলিশ যত দ্রুত কাজ করেছে, সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে তেমনটা দেখা যায় না। তার জিডি করার পর পুলিশ তাকে জানিয়েছিল যে তারা খোঁজ করবে এবং পেলে জানাবে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষিত হয়নি। এখনো তিনি বাসে উঠলেই ওই ঘটনার কথা মনে পড়ে। তিনি ভাবেন, নোয়াখালীর সেই বয়স্ক ভদ্রলোক ঠিকই বলেছিলেন—ছিনতাইকারী ফাঁকি দিয়ে চলে যাবে, কারণ তিনি অসাধারণ নন।