চট্টগ্রাম শহরের হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোতে খাবার তৈরি এবং সংরক্ষণের ক্ষেত্রে চরম অবহেলা ও অনিয়মের চিত্র সামনে এসেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পৃথক অভিযানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের প্রমাণ পাওয়া গেছে। কোথাও খাবারের উপকরণে জীবিত ও মৃত তেলাপোকার উপস্থিতি মিলেছে, আবার কোনো কোনো হোটেলের রান্নাঘরে বিড়াল শুয়ে থাকতে দেখা গেছে।

গত সেপ্টেম্বর মাসে চালানো অভিযানে দেখা যায়, ডালডা, তেল, মসলা, দুধ, মোরব্বা, কিশমিশ এবং রুটি তৈরির খামিরে তেলাপোকা ও ছারপোকার উপদ্রব রয়েছে। এছাড়া আগস্ট মাসে জিইসি মোড়ের আল-হেলাল হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের রান্নাঘরে বিড়ালের বিচরণ পাওয়া যায়। শুধু সাধারণ রেস্তোরাঁ নয়, ১ অক্টোবর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সংলগ্ন সিএমসি ক্যাফে এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ক্যানটিনেও একই ধরনের অনিয়ম ধরা পড়ে। সেখানে রুটির খামিরে তেলাপোকা এবং ফ্রিজে কাঁচা মাছ-মাংসের সাথে রান্না করা খাবার একত্রে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল।

কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছর খাবারে ভেজাল, পরিবেশের অপরিচ্ছন্নতা এবং অননুমোদিত উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগে মোট ৪২টি প্রতিষ্ঠানকে দেড় কোটি টাকারও বেশি জরিমানা করা হয়েছে। এই তালিকায় কাচ্চি ডাইন, কেএফসি, বারকোড, সাদিয়াস কিচেন এবং হোম রেসিপি ফুডসের মতো নামি প্রতিষ্ঠানের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া ফ্লেভারস সুইটস অ্যান্ড বেকারির কারখানায়ও অনিয়ম পাওয়া গেছে।

চিকিৎসকদের মতে, এমন দূষিত পরিবেশে তৈরি খাবার খেলে ডায়রিয়া, বমি এবং তীব্র পেটব্যথার মতো খাদ্যজনিত অসুস্থতা তৈরি হয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আবদুর রব জানান, দূষিত পানি ও খাবার ডায়রিয়ার প্রধান কারণ। শরীর থেকে পানি ও লবণ বেরিয়ে গেলে দ্রুত খাবার স্যালাইন এবং নিরাপদ পানি পান করা প্রয়োজন, আর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ সতর্ক করে বলেন, হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল এলাকায় খাবারের অনিয়ম রোগী এবং তাদের স্বজনদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা (নগর) মোহাম্মদ ফারহান ইসলাম উল্লেখ করেন যে, রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা এবং কর্মীদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি সরাসরি জনস্বাস্থ্যের সাথে জড়িত। পোড়া তেল ও মেয়াদোত্তীর্ণ উপকরণের ব্যবহার এবং খোলা ডাস্টবিনের পাশে রান্না করার মতো প্রবণতা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

শহরের অসংখ্য কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং চাকরিপ্রার্থীরা প্রতিদিন এসব রেস্তোরাঁর ওপর নির্ভরশীল। নুরুল আবছারের মতো অনেকেই বর্তমানে এই অনিয়ন্ত্রিত ও অস্বাস্থ্যকর খাবারের কারণে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন।