চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় স্ত্রী ও তাঁর স্বজনদের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন মোহাম্মদ হাশেম (৩৭)। এই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে নিহতের স্ত্রী আয়শা আক্তারকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বরুমতি সেতু সংলগ্ন মহাসড়কের পাশে রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় হাশেমকে উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, তিনি অত্যন্ত করুণভাবে হাতের ইশারায় বাঁচার আকুতি জানাচ্ছিলেন। উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত মোহাম্মদ হাশেম সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের বাদশাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। পুলিশি তদন্ত ও স্থানীয় তথ্যানুযায়ী, স্ত্রী আয়শার সঙ্গে তাঁর দাম্পত্য জীবন দীর্ঘ ১৬ বছর আগে শুরু হয়েছিল। তাঁদের দুটি সন্তান রয়েছে। হাশেমের মেজ ভাই মোহাম্মদ মোস্তাকের দাবি, প্রায় ১০-১২ বছর আগে বাবা থেকে পাওয়া নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে হাশেম শ্বশুরবাড়িতে চলে যান এবং সেখানে স্ত্রীর নামে সম্পত্তি লিখে দিয়ে ঘরবাড়ি তৈরি করেন। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এক বছর আগে দেশে ফেরার পর থেকেই তাঁদের মধ্যে বিরোধ তীব্র হয়। অভিযোগ উঠেছে, স্ত্রী ও তাঁর স্বজনরা হাশেমকে দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন এবং বাইরের লোক দিয়েও মারধর করাতেন। এমনকি গত মাসেও স্ত্রীর হাতে তাঁর মাথা ফেটে গিয়েছিল বলে জানান মোস্তাক।

ঘটনার রাতে, গত বুধবার রাতে শ্বশুরবাড়িতে তাঁকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার ভোর পাঁচটার দিকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তাঁকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বরুমতি সেতুর পাশে ফেলে যাওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, পাঁচ থেকে সাতজনের একটি দল মিলে এই হামলা চালিয়েছে, যার ফলে নিহতের ডান পা ভেঙে গিয়েছিল এবং শরীর রক্তাক্ত হয়ে গিয়েছিল।

চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম দিদারুল ইসলাম সিকদার জানান, প্রাথমিক তদন্তে আয়শা আক্তারের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহতের বাবা বানু মিয়ার দায়ের করা মামলায় পুলিশ এই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান বিষয়টি তদন্তাধীন বলে জানিয়েছেন এবং বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে প্রকাশের কথা বলেছেন। শুক্রবার সকালে চন্দনাইশ থানায় এই হত্যাকাণ্ডের মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করা হয়।