আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের রাত ঘিরে ফুটবল বিশ্বে চলছে তুমুল বিতর্ক ও আলোচনা। ইউরোপীয় গণমাধ্যমগুলো বায়ার্ন মিউনিখের হ্যারি কেইন এবং রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপ্পেকে জয়ের দৌড়ে এগিয়ে রাখলেও, স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে এই মতের সাথে একমত নন। তাঁর মতে, যারা বিশ্বকাপের মুকুট জয় করেছেন, তাদের বাইরে অন্য কারও হাতে এই সম্মাননা যাওয়াটা যুক্তিযুক্ত হবে না।
পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ মৌসুমে বায়ার্নের হয়ে ৬৫টি গোল করেছেন হ্যারি কেইন, এবং বিশ্বকাপে ৬টি গোল করে ইংল্যান্ডকে তৃতীয় স্থানে নিয়ে এসেছেন। অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৫০ গোল করার পাশাপাশি বিশ্বকাপে ১০ গোল ও ৪টি অ্যাসিস্টের মাধ্যমে এমবাপ্পে এক অনন্য ইতিহাস গড়েছেন। এক আসরে ১৪টি গোলে সরাসরি অবদান রেখে তিনি লিওনেল মেসি এবং মিরোস্লাভ ক্লোসাকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনে বসেছেন। তবে ইউরো জয়ের পর রদ্রির স্বীকৃতি পাওয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়ে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, বিশ্বকাপ জয়ের পর এবারও একজন স্প্যানিশ খেলোয়াড়ই বিশ্বসেরার মুকুট পাওয়ার দাবিদার।
২০৩২ ইউরো পর্যন্ত স্পেনের দায়িত্ব ধরে রাখার নতুন চুক্তি করার পর ‘এল লারগুয়েরো’ রেডিও অনুষ্ঠানে কথা বলেন লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “আমার বিশ্বাস ট্রফিটি কোনো স্প্যানিশ খেলোয়াড়ের হাতেই যাওয়া উচিত। কারণ সামগ্রিক বোঝাপড়া ও খেলার মান বিবেচনায় তারা এখন বিশ্বের সেরা। স্প্যানিশ ফুটবলারদের পারফরম্যান্স নিখুঁত এবং এই সম্মান পাওয়ার সব যোগ্যতা তাদের আছে। তবে দুঃখজনক যে, আমাদের খেলোয়াড়দের প্রাপ্য সম্মান দেওয়াটা যেন খুব কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
উল্লেখ্য, ব্যালন ডি’অরের ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্পেনের ছয়জন খেলোয়াড় স্থান পেয়েছেন। তাঁরা হলেন—লামিনে ইয়ামাল, রদ্রি, ফেরান তোরেস, ফাবিয়ান রুইজ, মার্ক কুকুরেয়া এবং পাউ কুবারসি। এদের মধ্যে ফাবিয়ান রুইজ একই বছরে বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের বিরল কীর্তি গড়েছেন। এছাড়া রদ্রি বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল জিতেছেন এবং কুবারসি উদীয়মান সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন।
তবে স্প্যানিশদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন ১৮ বছর বয়সী বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামাল। বার্সেলোনাকে লা লিগা জেতানোর পেছনে তাঁর অবদান ছিল অপরিসীম; ২৪ গোল ও ১৭টি অ্যাসিস্টের মাধ্যমে তিনি মোট ৪১টি গোলে ভূমিকা রেখেছেন, যা ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের ষষ্ঠ সর্বোচ্চ। এছাড়া ড্রিবলিংয়ের ক্ষেত্রেও তিনি সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়েছেন। ইয়ামাল সম্প্রতি বলেছিলেন যে, ব্যালন ডি’অর কেবল গোল করার সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না। এই মন্তব্যে কেইন বা এমবাপ্পের প্রতি ইঙ্গিত থাকলেও কোচ দে লা ফুয়েন্তে একে বিতর্ক হিসেবে দেখছেন না। তিনি মনে করেন, ইয়ামাল ও এমবাপ্পে দুজনই ভিন্ন ধাঁচের খেলোয়াড় এবং আগামী বছরগুলোতে তারা ফুটবল বিশ্ব শাসন করবেন। এখন দেখার বিষয়, ২৬ অক্টোবর রাতে বিচারকরা কেবল গোলের হিসাব দেখবেন, নাকি দলগত সাফল্য ও প্রভাবের ওপর গুরুত্ব দেবেন।




