ভারতীয় ক্রিকেটের কিংবদন্তি অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী এবং চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে একটি আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। মূল বিরোধটি গড়ে উঠেছে সৌরভের নাম, পরিচিতি এবং তাঁর ক্যারিয়ারের অবিস্মরণীয় মুহূর্তগুলোর বাণিজ্যিক ব্যবহারকে কেন্দ্র করে। এই বিষয়টি বর্তমানে দিল্লি হাইকোর্টের বিচারাধীন।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘দুসরা: ইন্ডিয়াজ আদার ফ্রিডম স্ট্রাগল’ নামক একটি হিন্দি সিনেমা, যা গত ২৩ অক্টোবর মুক্তি পেয়েছে। পরিচালক দেও-র এই চলচ্চিত্রটি সৌরভের বায়োপিক নয়; বরং রাজস্থানের এক তরুণীর জীবনসংগ্রামের গল্প, যে সৌরভের ক্রিকেটীয় জীবন থেকে অনুপ্রেরণা পায়। তবে সৌরভ গাঙ্গুলীর অভিযোগ, সিনেমার ট্রেলারের একটি বড় অংশ এবং ছবির দ্বিতীয়ার্ধে তাঁর ক্যারিয়ারের নানা মুহূর্ত এবং বিশেষ করে ২০০২ সালের ন্যাটওয়েস্ট ট্রফিতে লর্ডসের ব্যালকনিতে জার্সি খুলে উদ্‌যাপনের দৃশ্যটি অনুমতি ছাড়াই ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এভাবে তাঁর পরিচিতিকে ব্যবহার করে নির্মাতারা বাণিজ্যিক সুবিধা নিচ্ছেন।

এই আইনি লড়াইয়ে সৌরভের পাশে দাঁড়িয়েছে লভ ফিল্মস এলএলপি, যারা ২০২১ সালে সৌরভের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে তাঁর অনুমোদিত বায়োপিক ‘দাদা: দ্য সৌরভ গাঙ্গুলী স্টোরি’ নির্মাণ করছে। ২০২৭ সালের ১৪ মে মুক্তি পেতে যাওয়া এই বায়োপিকের একচ্ছত্র বাণিজ্যিক স্বত্ব লভ ফিল্মসের কাছে। তাদের আশঙ্কা, অন্য একটি সিনেমায় সৌরভের পরিচিতির ব্যাপক ব্যবহার হলে অনুমোদিত বায়োপিকের বাণিজ্যিক মূল্য ও স্বত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অন্যদিকে, ‘দুসরা’র নির্মাতাদের যুক্তি হলো, তারা কোনো জীবনকাহিনী নির্মাণ করেননি, বরং একজন খেলোয়াড়ের সাফল্য থেকে অনুপ্রেরণার বিষয়টি ফুটিয়ে তুলেছেন। তাদের আইনজীবী মধু গাডোদিয়ার মতে, ন্যাটওয়েস্ট সিরিজের ফুটেজ ব্যবহারের জন্য বিসিসিআই (BCCI) এবং ইসিবি (ECB)-র কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, ফুটেজ ব্যবহারের অনুমতি এবং একজন ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব স্বত্ব (Personality Rights) সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।

সৌরভের আইনজীবীদের পাল্টা যুক্তি, ফুটেজের মালিকানা এক বিষয়, কিন্তু সেই ফুটেজের সাথে সৌরভের নাম ও পরিচিতি জুড়ে দিয়ে বাণিজ্যিক সুবিধা নেওয়া ব্যক্তিত্ব স্বত্বের লঙ্ঘন। তারা মনে করেন, এতে দর্শকদের মনে হতে পারে সিনেমাটির সাথে সৌরভের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা বা অনুমোদন রয়েছে।

মামলাটি নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিচারপতি দীনেশ ভাট ছবির মুক্তি স্থগিত করেননি, কারণ মুক্তির ঠিক আগের মুহূর্তে তা করা সমীচীন ছিল না। পরবর্তীতে বিচারপতি তেজস কারিয়া প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানান, ছবিতে সৌরভের ব্যক্তিত্ব ও প্রচার স্বত্ব লঙ্ঘনের উপাদান রয়েছে। তবে গল্পের সাথে এসব মুহূর্ত এমনভাবে মিশে আছে যে তা সরিয়ে ফেলা কঠিন। ফলে সিনেমাটি প্রদর্শনের অনুমতি বহাল থাকলেও, সৌরভের স্বার্থ রক্ষায় আদালত নির্মাতাদের দুই কোটি রুপির একটি নিঃশর্ত ব্যাংক গ্যারান্টি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া, সিনেমার শুরু ও শেষে হিন্দি এবং ইংরেজি ভাষায় একটি ঘোষণা যুক্ত করতে হবে যে, সৌরভ গাঙ্গুলীর সম্মতি ছাড়াই তাঁর নাম ও পরিচিতি ব্যবহার করা হয়েছে। চূড়ান্ত রায়ের আগ পর্যন্ত এই শর্তসাপেক্ষে সিনেমাটি চলবে।