২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করে এখন পূর্ণ প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে এবং নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই মেগা টুর্নামেন্টের কথা মাথায় রেখে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু হতে যাচ্ছে আগামীকাল। বাছাইপর্ব খেলার ঝুঁকি এখন আর নেই বলে এই সিরিজটিকে বিশ্বকাপ প্রস্তুতির আনুষ্ঠানিক সূচনা হিসেবে দেখছে টিম ম্যানেজমেন্ট।

বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে। টানা চারটি সিরিজ জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা নিশ্চিত করা মেহেদী হাসান মিরাজের পরিবর্তে নতুন অধিনায়ক করা হয়েছে লিটন দাসকে। দীর্ঘ প্রায় এক বছর খারাপ ফর্মের কারণে দলের বাইরে থাকলেও গত বছর পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে দলে ফিরে আসেন লিটন। বর্তমানে তিনি মিডল অর্ডারে ব্যাটিং করছেন এবং এই ত্রিদেশীয় সিরিজের মাধ্যমেই তাঁর পূর্ণ মেয়াদে অধিনায়কত্বের যাত্রা শুরু হচ্ছে।

প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার জানিয়েছেন, তাদের বিশ্বকাপ পরিকল্পনা অনেক আগেই শুরু হয়ে গিয়েছিল। বাছাইপর্ব এড়ানোর ব্যাপারে তারা আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। বর্তমান লক্ষ্য হলো র‍্যাঙ্কিংয়ে নিজেদের অবস্থান আরও উন্নত করে ৫ থেকে ৬ নম্বরের মধ্যে থেকে বিশ্বকাপে প্রবেশ করা। তিনি বিশ্বাস করেন, ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে তার সুফল পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং অর্ডার বর্তমানে কিছুটা স্থিতিশীল মনে হলেও স্পিন বিভাগ নিয়ে এখনো চিন্তিত ম্যানেজমেন্ট। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটে বাউন্স বেশি থাকায় বাঁহাতি স্পিনারদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। এই সমস্যা মোকাবিলায় এবং বল ঘোরানোর সামর্থ্যের কারণে রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলামকে ত্রিদেশীয় সিরিজে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, তিনি মাঝের ওভারগুলোতে উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষের রান গতি নিয়ন্ত্রণ করবেন। অন্যদিকে, রিশাদ হোসেনের সাম্প্রতিক ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে; জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই ম্যাচে মাত্র একটি উইকেট পাওয়া এবং ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে একাদশে জায়গা না পাওয়া তাঁর জন্য চিন্তার কারণ। তবে মেহেদী হাসান মিরাজের জায়গা নিয়ে কোনো সংশয় নেই, প্রশ্ন কেবল তাঁর যোগ্য সঙ্গী কে হবেন তা নিয়েই।

ভবিষ্যৎ সফর পরিকল্পনায় আগামী নভেম্বরে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারিত কোনো ওয়ানডে সিরিজ নেই, তবে জানুয়ারি মাসে ভারত অথবা পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া আগামী বছরের জুন-জুলাইয়ে ঘরের মাঠে এশিয়া কাপ অনুষ্ঠিত হবে।

আবুধাবিতে দলের অনুশীলন শেষে মোসাদ্দেক হোসেন আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই ত্রিদেশীয় সিরিজে জয়লাভ করতে পারলে বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপের আগে দলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বেড়ে যাবে।