যুক্তরাষ্ট্র এবং ভেনিজুয়েলার মধ্যে এক ঐতিহাসিক চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই চুক্তির আওতায় দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলার মোট ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের মজুতের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করবে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার এক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বার্তায় ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন এবং একে 'বিশ্ব ইতিহাসের বৃহত্তম তেল চুক্তি' হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের মধ্যস্থতায় এই সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, প্রায় নয় মাস আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশনায় এক সামরিক অভিযানে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হয়। মাদক পাচার এবং নার্কো-টেরোরিজমের ফেডারেল অভিযোগের মুখোমুখি করতে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হয়েছিল। মাদুরোর পতনের পর জানুয়ারিতেই ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো আবারও ভেনিজুয়েলায় ফিরে গিয়ে সেখানকার খনিগুলো থেকে তেল আহরণ করতে পারে। তার যুক্তি ছিল, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজের আমলে যখন বিদেশি সম্পদ জাতীয়করণ করা হয়, তখন মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর বিপুল সম্পদ ভেনিজুয়েলা অন্যায়ভাবে দখল করে নিয়েছিল।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র তীব্র জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ছয় মাস পূর্ণ হলেও কোনো সমাধান মেলেনি, যার প্রভাবে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভের ওপর নির্ভর করছিল। তবে ২০২৬ সালের শুরু থেকে এই মজুত ১০০ মিলিয়ন ব্যারেলের বেশি হ্রাস পেয়েছে এবং আগস্টের শুরুতে তা ৩০০ মিলিয়ন ব্যারেলের নিচে নেমে আসে।

ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, ভেনিজুয়েলায় বর্তমানে প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে, যা বিশ্বের মোট সরবরাহের প্রায় ১৭ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তের মতো এখানে তেলের খোঁজ করতে হয় না, বরং মাটির নিচে তেলের অবস্থান আগে থেকেই ম্যাপ করা এবং সুপরিচিত। তবে পরিকাঠামোগত চরম অবহেলার কারণে ভেনিজুয়েলা বর্তমানে বিশ্বের মোট তেল উৎপাদনের মাত্র ১ শতাংশ উৎপাদন করতে সক্ষম। এই বিশাল রিজার্ভের নিয়ন্ত্রণ এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে চলে আসায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।