অস্ট্রেলিয়ার সাবেক উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান ম্যাথু ওয়েড আর বিগ ব্যাশে দেখা যাবে না। কোচিং ক্যারিয়ারে পুরোপুরি মনোযোগ দিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ২০২৬-২৭ মৌসুম শুরুর আগে খেলোয়াড়ী জীবন থেকে সরে দাঁড়ালেন ৩৮ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। গত মৌসুমে হোবার্ট হারিকেন্সের হয়ে খেলার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার পুরুষ দলের পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছিলেন তিনি। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার পুরুষ দলের সাদা বলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে তাকে।
২০২১ সালে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ওয়েডের। ২০২৪ সালের আসরের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান তিনি। এরপরই শুরু করেন কোচিং ক্যারিয়ার। ২০২৪ সালের মার্চে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটকেও বিদায় বলে দিয়েছিলেন তিনি। এরপর তাসমানিয়ার হয়ে ওয়ানডে কাপ এবং হোবার্টের হয়ে বিগ ব্যাশে প্রতিনিধিত্ব করছিলেন। ওয়ানডে কাপে মাত্র ১০টি ম্যাচ খেলেছেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান, যার সবশেষটি গত মার্চে নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে। তাসমানিয়ার হয়ে ওয়ানডে কাপে খেলার অধ্যায়টিও এবার শেষ করলেন তিনি।
২০১১-১২ মৌসুমে মেলবোর্ন স্টার্সের হয়ে বিগ ব্যাশে অভিষেক হয়েছিল ওয়েডের। তখন তার সতীর্থ ছিলেন শেন ওয়ার্ন। স্টার্সের হয়ে ১৬টি ও মেলবোর্ন রেনেগেডসের হয়ে ১৩টি ম্যাচ খেলার পর নিজ রাজ্যের দল হোবার্ট হারিকেন্সে ফিরে যান তিনি। হোবার্টের জার্সিতে খেলেছেন ৯০টি ম্যাচ। বিগ ব্যাশে মোট ১১৯ ম্যাচে ১৪২.৩৫ স্ট্রাইক রেটে ২ হাজার ৯৭৮ রান করেছেন ওয়েড। একটি সেঞ্চুরির পাশাপাশি ফিফটি আছে ১৯টি। প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় তিনি নবম স্থানে।
হোবার্টের হয়ে দুই হাজার রান করা তিন ব্যাটসম্যানের একজন এই উইকেটরক্ষক। দলটির জার্সিতে তার রান ২ হাজার ৪৪৬। এই তালিকায় তার উপরে আছেন ডার্সি শর্ট (২ হাজার ৭০৬) ও বেন ম্যাকডারমট (৩ হাজার ১৮৪)। তবে ক্যারিয়ার সেরা ১৩০ রানের অপরাজিত ইনিংসটি এখনও হোবার্টের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। ২০২৪-২৫ মৌসুমে হোবার্টের প্রথম বিগ ব্যাশ শিরোপা জয়ের পথেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল তার।
ঘরোয়া ক্রিকেটে পাঁচটি স্টেট শিরোপা জিতেছেন ওয়েড, সবগুলোই ভিক্টোরিয়ার হয়ে। এর মধ্যে রয়েছে চারটি শেফিল্ড শিল্ড শিরোপা — ২০০৮-০৯, ২০০৯-১০, ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ মৌসুমে — এবং ২০১০-১১ মৌসুমে ৫০ ওভারের একটি শিরোপা। ১৯ বছরের পেশাদার ক্যারিয়ারে তিনি অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৩৬টি টেস্ট, ৯৭টি ওয়ানডে এবং ৯২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন।




