ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে এক কিশোরীকে প্রতারিত করা এবং ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল র্যাব ব্যাটেলিয়ন (এসআরবি)। বৃহস্পতিবার রাতে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ এলাকা থেকে আনোয়ার হোসেন রানা (২৩) নামক ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। জামালপুরের কোম্পানি কমান্ডার মেজর লাবিদ আহমেদ এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় মোবাইলের মাধ্যমে পরিচয় হওয়া থেকে। অভিযুক্ত রানার সঙ্গে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর রানা ওই কিশোরীকে তার বাবার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় শেরপুর শহরের একটি বাসায়। সেখানে একজন ভুয়া কাজীর মাধ্যমে নীল রঙের কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে একটি ভুয়া বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। এরপর স্বামী-স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে আসামি রানার নিজস্ব বাড়িতে এবং কিশোরীর বাবার বাড়িতে সংসার শুরু করে।

কিছুদিন পর ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। গর্ভাবস্থার সাত মাস পূর্ণ হলে তিনি রানার কাছে বিয়ের কাবিননামা দাবি করেন। তবে রানা কৌশলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় ৭ আগস্ট সকালে, যখন রানা ওই কিশোরীর পরিবারের কাছে যৌতুক হিসেবে ৩ লাখ টাকা দাবি করে। যৌতুকের এই অনৈতিক দাবি প্রত্যাখ্যান করায় রানা ক্ষিপ্ত হয়ে কিশোরীকে গালিগালাজ করে এবং তাকে জানায় যে সে আইনগতভাবে বিয়ে করেনি। এরপরই সে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী কিশোরী শেরপুরের বিভিন্ন কাজী অফিসে যোগাযোগ করে জানতে পারেন যে, তাদের বিবাহের কোনো বৈধ কাবিননামা নেই। প্রতারণা ও ধর্ষণের এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে শেরপুর সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

এসআরবি-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-১৪ (জামালপুর) এবং এসআরবি-১১ (লক্ষ্মীপুর)-এর একটি যৌথ অভিযানিক দল এই গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তারকৃত আনোয়ার হোসেন রানাকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য শেরপুর সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে মেজর লাবিদ আহমেদ জানান।