ইউরোপের জাদুঘরগুলোতে চুরির যে উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা দিয়েছে, তার সাম্প্রতিকতম নজির স্থাপন করল ভিয়েনার এক প্রদর্শনী। শহরের মিউজিয়াম অব অ্যাপ্লায়েড আর্টস থেকে মিসরের সাবেক রানি নাজলির অমূল্য একটি কণ্ঠহার খোয়া গেছে। দর্শনার্থীদের ভিড়ের মধ্যে নিমিষেই কাচের বাক্স ভেঙে হারটি হাতিয়ে নেয় দুজন অপরাধী। হারটিতে মোট ৬৭৩টি হীরা বসানো, যার মোট ওজন প্রায় ২০০ ক্যারেট। স্থানীয় গণমাধ্যম দ্য ক্রোনেন জানিয়েছে, তদন্তকারীদের ধারণা, আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের ভাড়াটে হিসেবে কাজ করেছে এই দুজন। ঘটনার আকস্মিকতায় জাদুঘরের বিশেষ প্রদর্শনীটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেলে সাধারণ টিকিট কেটে জাদুঘরে প্রবেশ করেন ওই দুই ব্যক্তি। মুখোশ বা ছদ্মবেশ ছাড়াই তাঁরা সরাসরি মূল প্রদর্শনী কক্ষে যান। সেখানে হাতুড়ির এক আঘাতে কাচের বাক্সটি ভেঙে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে নেকলেসটি নিয়ে পালিয়ে যান। ঘটনার গতি এতটাই দ্রুত ছিল যে উপস্থিত দর্শনার্থীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই অপরাধীরা নিখোঁজ। ভিয়েনা পুলিশ এখন প্রশিক্ষিত কুকুর ও বিশেষ অভিযান দল নিয়ে শহরজুড়ে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে। সিসিটিভির ফুটেজ প্রকাশ করে জনগণের সহায়তাও চাওয়া হয়েছে।
ঐতিহাসিক গুরুত্বের দিক থেকে এই হারটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৩৯ সালে মিসরের তৎকালীন রানি নাজলি নিজ কন্যা ফাওজিয়ার বিয়েতে এটি পরিধান করেছিলেন। রাজকুমারী ফাওজিয়ার সঙ্গে ইরানের তৎকালীন যুবরাজ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির বিবাহ হয়েছিল। বিশ্বখ্যাত ফরাসি অলংকার প্রতিষ্ঠান ভ্যান ক্লিফ অ্যান্ড আর্পেলসের তৈরি এই নেকলেসটি ২০১৫ সালে নিলামে তোলা হলে প্রায় ৪৩ লাখ ডলারে বিক্রি হয়, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫০ কোটি টাকারও বেশি।
শুধু ভিয়েনাই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের একাধিক জাদুঘরে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। ফ্রান্সের প্যারিসের ল্যুভর, স্পেনের ব্রোঞ্জ যুগের প্রত্নতাত্ত্বিক সংগ্রহশালা এবং ইতালির মেসিনা জাদুঘর থেকে মূল্যবান শিল্পকর্ম ও প্রাচীন গয়না চুরির ঘটনা ঘটেছে। ইউরোপের পুলিশ সংস্থা ইউরোপোল এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, অপরাধীরা এখন আরও বেপরোয়া আচরণ করছে। তারা বড় হাতুড়ি ও কুড়াল ব্যবহার করে দ্রুত ভাঙচুর চালাচ্ছে, পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে জাদুঘরে ডাকাতিও করছে। এই প্রেক্ষাপটে ভিয়েনার ঘটনাটি ইউরোপজুড়ে সাংস্কৃতিক সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।




