বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলের কোচ জেরার্ড জোন্সকে ঘিরে গুঞ্জন ওঠে যে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে এই খবরকে নাকচ করে দিয়েছেন ইংলিশ এই কোচ। তাঁর দাবি, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) থেকে এ সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য তাঁকে জানানো হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ভিডিও বার্তায় জোন্স বলেন, ফেডারেশন থেকে বরখাস্তের ব্যাপারে তাঁকে কিছুই বলা হয়নি। কোথা থেকে এমন তথ্য আসছে, সে সম্পর্কেও তিনি অবগত নন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেউ কেন ভুল বা মিথ্যা খবর প্রচার করে দলের ঐক্য নষ্ট করার চেষ্টা করবে? তাঁর মতে, এমন কাজ থেকে কারও কোনো লাভ নেই।
ফুটবল ক্যারিয়ারে এর আগে কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি বলে জানান জোন্স। তাঁর মতে, কোনো প্রশিক্ষণ কোর্স একজন কোচকে এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনার জন্য প্রস্তুত করতে পারে না। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দশ বছর পর হয়তো এই ঘটনা নিয়ে হাসাহাসি করা যাবে।
জোন্সকে ঘিরে এই বিতর্কের সূত্রপাত গত বুধবারের এক ঘটনা থেকে। অনূর্ধ্ব-২০ দলের টিম হোটেলে জোন্স ও সহকারী কোচ আতিকুর রহমানের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়, যা একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কিতে রূপ নেয়। এমন পরিস্থিতিতে জোন্স নিজে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশ ডাকেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটি দেশের ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটি তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তির মুখে পড়তে পারেন জোন্স। বাফুফের এক সূত্রের খবর, শাস্তি পেলে উজবেকিস্তানে অনুষ্ঠেয় এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে দলের সঙ্গে তাঁর যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।
আগামী ৩১ আগস্ট উজবেকিস্তানে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব শুরুর কথা রয়েছে। এই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে অনূর্ধ্ব-২০ দলের কাল দেশ ছাড়ার সূচি আছে। তাই কোচের বিষয়ে দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে মূল দলের প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখন তদন্ত শেষে ফেডারেশন জোন্সের বিষয়ে কী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট মহল।




