বিশ্ববিখ্যাত সিরিজ ‘স্কুইড গেম’-এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করা দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথিতযশা নির্মাতা হোয়াং দং-হিউক আবারো বড় পর্দার গল্প বলতে আসছেন। তাঁর নতুন এই চলচ্চিত্রের নাম রাখা হয়েছে ‘কে.ও. ক্লাব’, যা মূলত একটি সায়েন্স ফিকশন বা কল্পবিজ্ঞাননির্ভর থ্রিলার। ২০১৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র ‘দ্য ফোর্ট্রেস’-এর পর প্রায় দশ বছরের দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা নির্মাণে ফিরছেন তিনি। এর আগে ‘সাইলেন্সড’ এবং ‘মিস গ্র্যানি’-র মতো উল্লেখযোগ্য সিনেমা উপহার দিয়েছেন এই নির্মাতা।
নতুন সিনেমা ‘কে.ও. ক্লাব’ (পুরো নাম: কিলিং ওল্ডমেন ক্লাব) ভবিষ্যতের একটি বৈষম্যমূলক সমাজের প্রেক্ষাপটে নির্মিত হবে। গল্পের মূল উপজীব্য হলো ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার চরম ব্যবধান। যেখানে সমাজের প্রভাবশালী ও বিত্তবান ব্যক্তিরা বিপুল অর্থ খরচ করে নিজেদের যৌবন এবং শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হবেন। বিপরীতে, তরুণ প্রজন্ম অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সামাজিক সুযোগের অভাব এবং আশাহীনতার অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকবে। এই পরিস্থিতি থেকে জন্ম নেবে বয়স্ক ধনকুবের এবং হতাশ তরুণদের মধ্যে এক তীব্র ও রক্তক্ষয়ী সংঘাত। সিনেমার নামকরণের মাধ্যমেই এই প্রজন্মগত ক্ষোভের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
অভিনয়শিল্পী হিসেবে এই সিনেমায় দেখা যাবে দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় তারকা লি বিয়ং-হুনকে। ‘স্কুইড গেম’ সিরিজে ফ্রন্টম্যান চরিত্রে অভিনয় করে তিনি নির্মাতা হোয়াং-এর সঙ্গে যে কাজের সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন, তা এবার বড় পর্দায় অব্যাহত থাকছে। এছাড়া অভিনয় দলে রয়েছেন ‘স্কুইড গেম’-এর পার্ক হে-সু, ‘প্যারাসাইট’ খ্যাত চো ইয়ো-জিয়ং, ‘ইটস ওকে টু নট বি ওকে’-এর ওহ জং-সে এবং ‘দ্য ম্যান স্ট্যান্ডিং নেক্সট’-এর কিম সো-জিন।
সিনেমাটি প্রযোজনা করবে ফার্স্টম্যান স্টুডিও, যা নির্মাতা হোয়াং দং-হিউক এবং প্রযোজক কিম জি-ইয়নের যৌথ প্রতিষ্ঠান। উল্লেখ্য, এই স্টুডিওটিই ‘স্কুইড গেম’-এর বিশ্বব্যাপী সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। অ-ইংরেজি ভাষার সিরিজ পরিচালনার জন্য প্রাইমটাইম এমি পুরস্কার জয়ী প্রথম এশীয় নির্মাতা হিসেবে হোয়াং দং-হিউক তাঁর নতুন এই চলচ্চিত্রে সামাজিক স্থবিরতা, অর্থনৈতিক অসমতা এবং প্রজন্মের হতাশার মতো গভীর বিষয়গুলো ফুটিয়ে তুলতে চান। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে সিনেমাটির শুটিং কার্যক্রম শুরু হবে।



