মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে পাস হওয়া নতুন ফার্ম বিল বর্তমানে সিনেটে আলোচনার অপেক্ষায় রয়েছে। ওই বিলটি গৃহীত হলে বন্য শূকর নিয়ন্ত্রণে ফেডারেল তহবিল ১৫ কোটি ডলার বৃদ্ধি পাবে এবং কর্মসূচির মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত বর্ধিত হবে। এর আগে, জুলাই ২০২৫ সালে পাস হওয়া বৃহৎ বাজেট ও অভিবাসন প্যাকেজের মাধ্যমে এই প্রচেষ্টাকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত ১০৫ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। ২০২৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম ৩৫ মিলিয়ন ডলারের অনুদান আবেদনের সময়সীমা খোলা রয়েছে।
বন্য শূকর বর্তমানে ৩৫টি অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে আছে। ২০১৬ সালের সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তখন দেশব্যাপী প্রায় ৭০ লাখ বন্য শূকর ছিল; বর্তমান সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। এরা সারা বছর প্রজনন করতে পারে এবং প্রতি বছর চার থেকে ১২টি শাবকের দুইটি লিটার জন্ম দিতে সক্ষম। মাত্র চার মাসে এদের জনসংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। মার্কিন কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, বন্য শূকর প্রতিবছর ২.৫ বিলিয়ন থেকে ৩.৪ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সম্পত্তির ক্ষতি করে। এর মধ্যে অন্তত ৮০ কোটি ডলার ফসলের ধ্বংস। ফসল ছাড়াও এরা গবাদি পশুর মধ্যে রোগ ছড়ায়, বেড়া ও সড়কসহ কৃষি অবকাঠামো নষ্ট করে, বিনোদন পার্ক ধ্বংস করে এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল, পানির গুণগত মান ও উদ্ভিদ বাস্তুতন্ত্রে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
নিয়ন্ত্রণের বড় সমস্যা হলো এরা বিশাল ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমি জুড়ে বিচরণ করে। প্রতিবেশী জমির মালিকরা একযোগে কাজ না করলে শূকরগুলো শুধু স্থান পরিবর্তন করে, মারা যায় না বা আটকা পড়ে না। মৌলিক অর্থনৈতিক তত্ত্ব অনুসারে, প্রত্যেকে অন্যের খরচ ও শ্রমের প্রত্যাশায় অপেক্ষা করতে চায়—ফলে কেউ উদ্যোগ নেয় না এবং সমস্যা বেড়েই চলে।
২০১৮ সালের ফার্ম বিলের অধীনে কংগ্রেস প্রথমে ৭৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছিল। ১০টি শূকর-প্রবণ অঙ্গরাজ্য—আলাবামা, আরকানসাস, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, লুইজিয়ানা, মিসিসিপি, উত্তর ক্যারোলিনা, ওকলাহোমা, দক্ষিণ ক্যারোলিনা ও টেক্সাস—এর নির্দিষ্ট কাউন্টিতে এই পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চালু হয়। ২০২০ সাল থেকে মার্কিন কৃষি বিভাগ ব্যক্তিগত জমির মালিকদের ফাঁদ কেনা, খামারে ফাঁদ বসানো এবং শূকরের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জমি পুনরুদ্ধারের জন্য তহবিল দেয়। মূলত ২০২৩ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে মেয়াদ বর্ধিত হয়।
এই কর্মসূচির কার্যকারিতা মূল্যায়নে টেনেসি ও আরকানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতিবিদরা ফেডারেল শস্য বীমা দাবির তথ্য বিশ্লেষণ করেন। গবেষণায় দেখা যায়, কর্মসূচি চালু ছিল এমন কাউন্টিতে বন্যপ্রাণীর কারণে ভুট্টা খেতের ক্ষতির গড় বীমা দাবি প্রতি পলিসিতে ৭০ একর থেকে কমে ১০ একরে নেমে এসেছে—যা পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্য। তবে সয়াবিন, গম, তুলা ও চিনাবাদামের ক্ষেত্রে কর্মসূচি থাকা ও না থাকার কাউন্টির মধ্যে কোনো পার্থক্য পাওয়া যায়নি।
ভুট্টাই শূকরের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ফসল বলে মনে করা হয়, যা এই ফলাফলের ব্যাখ্যা দিতে পারে। আরও বিস্তৃতভাবে, কর্মসূচিটি কোভিড-১৯ মহামারির সময় চালু হওয়ায় সম্প্রদায়ভিত্তিক সভা ও জনসচেতনতামূলক প্রচার সীমিত ছিল, যা জমির মালিকদের অংশগ্রহণ কমিয়ে দিয়েছিল। পরীক্ষামূলক প্রকৃতির কারণে অনেকে কয়েক বছরের মধ্যে কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যেতে পারে—এই আশঙ্কায় দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি দিতে অনিচ্ছুক ছিলেন। গবেষকরা মনে করেন, তাদের বিশ্লেষণে সম্ভবত কর্মসূচির সুফল কম দেখানো হয়েছে। অনেক কৃষকের ক্ষতি বীমা দাবির জন্য পর্যাপ্ত গুরুতর নয়—তাই সেগুলো বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এছাড়া ফসলবহির্ভূত ক্ষতি—যেমন সম্পত্তি, গবাদি পশু, বিনোদন পার্ক ও পরিবেশের সামগ্রিক ক্ষতি—মূল্যায়নে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
গবেষণার সুপারিশ অনুযায়ী, ভুট্টা উৎপাদনকারী কাউন্টিতে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করলে বিনিয়োগের বিপরীতে সফলতা আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রচার ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে বৃহত্তর এলাকাজুড়ে আরও শূকর ধরা বা নিধন করা সম্ভব, যা সুফল আরও বৃদ্ধি করবে। বন্য শূকর সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা প্রায় অসম্ভব এবং তাদের ক্ষতিও সম্পূর্ণ দূর হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে তথ্য-উপাত্ত নির্দেশ করে, সঠিক নকশা ও ধারাবাহিক বিনিয়োগের মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের কাছে এমন একটি কর্মসূচি রয়েছে যা মার্কিন কৃষকদের জন্য বাস্তব পার্থক্য গড়ে তুলতে পারে। এই গবেষণার লেখকরা হলেন টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ও সম্পদ অর্থনীতির অধ্যাপক ও বিভাগ প্রধান ক্রিস বয়ার, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যারন স্মিথ এবং আরকানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি ও কৃষি ব্যবসা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইউনচুন পার্ক। প্রতিবেদনটি দ্য কনভার্সেশন থেকে পুনর্প্রকাশিত এবং ফর্চুন ডটকমে প্রকাশিত হয়েছিল।



