বান্দরবানের রুমা উপজেলায় পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের এক মাঠ সংগঠক ঋণ আদায়ের কাজে বের হয়ে নিখোঁজ হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁর নাম মৃত্যুঞ্জয় কুমার মণ্ডল। গতকাল শনিবার সকালে একটি প্রত্যন্ত পাড়ায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন তিনি; এরপর আর তাঁর কোনো খোঁজ মেলেনি। আজ রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্তও তাঁর হদিস পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা প্রকাশ চাকমা।
ছুটির দিন হলেও অফিসের মোটরসাইকেল নিয়ে পাইন্দু ইউনিয়নের দুর্গম আলেচুপাড়ায় সমিতির কিস্তি তোলার উদ্দেশ্যে রওনা দেন মৃত্যুঞ্জয়। অফিসের হিসাবরক্ষক মো. রবিউল হোসেন জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাঁর কাছ থেকে মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে মৃত্যুঞ্জয় বলেন, আলেচুপাড়ায় যাবেন। সন্ধ্যায় তাঁর স্ত্রী অফিসে খোঁজ নিতে এলে বেরিয়ে আসে এই ঘটনা।
মৃত্যুঞ্জয় নিয়মিতভাবে সমিতি গঠন এবং কিস্তি আদায়ের জন্য পাহাড়ের ভেতরের জনপদগুলোতে যাতায়াত করতেন। আগে কখনো এমন সমস্যায় পড়তে হয়নি তাঁকে। ছুটির দিন হওয়ায় অফিসের অন্য কেউ তাঁর অবস্থান সম্পর্কে অবগত ছিল না, ফলে বের হওয়ার পর আর কারও নজরেও পড়েনি তাঁর গতিবিধি।
নিখোঁজ মৃত্যুঞ্জয়ের গ্রামের বাড়ি খুলনার কয়রা উপজেলার ঝিনুকাঠি আমাদি এলাকায়। তাঁর বাবার নাম বিপন্ন মণ্ডল। চাকরির কারণে বদলি হয়ে রুমায় আসার পর থেকে স্ত্রী ও এক সন্তানকে নিয়ে সেখানেই থাকছেন বলে অফিসের সহকর্মীরা জানিয়েছেন।
ঘটনার পর রুমা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মানস বড়ুয়া জানান, মৃত্যুঞ্জয়ের নিখোঁজের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। মুঠোফোনের সিগনাল বিশ্লেষণ করে গতকাল দুপুর পর্যন্ত তাঁকে কুক্ষ্যংঝিরি এলাকায় শনাক্ত করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, বিকেলের দিকে তাঁকে মুরুংবাজার এলাকায় দেখা গেছে। পরে কুক্ষ্যংঝিরি বাজার থেকে তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।
বর্তমানে মৃত্যুঞ্জয়ের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং পুলিশ। পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সীমিত থাকায় উদ্ধার কাজে কিছুটা বাধার সৃষ্টি হচ্ছে বলেও জানা গেছে। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত তাঁকে উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানানো হয়েছে।




