রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের গাড়ি থামিয়ে নিজেদের বঞ্চনার কথা জানান সংস্থাটির সাবেক পরিবেশকরা। অন্তর্বর্তীকালীন ও বর্তমান সরকারের আমলে অনেক ডিলারের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে এবং অনেকের ক্ষেত্রে মেয়াদ শেষে নবায়ন করা হয়নি। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে দীর্ঘ কয়েক দিন ধরে টিসিবি কার্যালয়ের সামনে অনশন কর্মসূচি পালন করছেন তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার টিসিবির নতুন সেবামূলক মোবাইল অ্যাপ ‘উপকারী’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে যখন মন্ত্রী বের হচ্ছিলেন, তখন আন্দোলনকারীরা তাঁর গাড়ি আটকে দাবিদাওয়া উত্থার করেন। পুলিশি নিরাপত্তা বলয়ে মন্ত্রী দ্রুত এলাকা ত্যাগ করলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি গাড়ির জানালা খুলে তাঁদের কথা শুনছিলেন এবং সচিবালয়ে এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করার অনুরোধ জানিয়ে ভিজিটিং কার্ড প্রদান করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, তিনি আন্দোলনকারী ডিলারদের কথা শুনতে আগ্রহী এবং তাঁদের সচিবালয়ে আসার কথা বলা হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, দাবির যৌক্তিকতা প্রমাণিত হলে অবশ্যই প্রতিকার দেওয়া হবে। আগামী রোববার একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন মন্ত্রী। অন্যদিকে, টিসিবি ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেছেন যে, সংস্থাটি মনগড়াভাবে নতুন ডিলার নিয়োগ দিচ্ছে এবং যোগ্য পরিবেশকদের অকারণে বাদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী রবিবারের বৈঠকে তাঁরা ন্যায্য বিচার পাবেন।

টিসিবি-র নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী ডিলারশিপ প্রতি দুই বছর অন্তর নবায়ন করা হয়। ২০২৫ সালের মার্চে নতুন নীতিমালা প্রবর্তনের পর অনেক ডিলার অভিযোগ করেছেন যে, ওয়ার্ডে আসন নেই বলে তাঁদের নবায়ন করা হয়নি, অথচ একই ওয়ার্ডে নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তথ্যানুসারে, গত ৩ ও ১১ মে মিলিয়ে মোট ১৬৩ জন ডিলারের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেনি টিসিবি, যদিও একই সময়ে ১০৯ জনের সাথে চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে। এই বিষয়ে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ জানান, পুরনো নীতিমালার ত্রুটি দূর করতে এবং সংস্কার আনতে নতুন নীতিমালা করা হয়েছে, কারণ আগে এক স্থানে ৩০ জন ডিলার থাকার মতো অসংগতি ছিল।

এর পাশাপাশি, টিসিবি তাদের ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে ‘উপকারী’ মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে উপকারভোগীরা ডিজিটাল কিউআর কোড ব্যবহার করে পণ্য সংগ্রহ করতে পারবেন, ফলে কার্ড হারিয়ে গেলেও সেবা পাওয়া সম্ভব হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, এই ডিজিটাল রূপান্তর এবং বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে চলতি অর্থবছরে প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি টাকার ভর্তুকি সাশ্রয় হতে পারে। অ্যাপটির এআই (AI) ভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থার মাধ্যমে পণ্যের বিতরণ এবং অনিয়ম রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। এছাড়া এনআইডি এবং ফোন নম্বর যাচাই করে প্রায় ৫৯ লাখ অযোগ্য আবেদনকারীকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৭৯ লাখ উপকারভোগী এই সেবার আওতায় রয়েছেন, যা ভবিষ্যতে ১ কোটে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।