পেশাদার অভিনেত্রী ও মডেল হিসেবে দুই দশকের পথচলা রুনা খানের। ২০০৪ সালে 'সিসিমপুর'-এর মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যাত্রা এখনও অব্যাহত। সম্প্রতি মনজুর কাদেরের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর অভিনয় জীবনের অভিজ্ঞতা, কাজের ধরন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন। রুনা খান জানান, দীর্ঘ এই সময়ে তাঁর কাজের গতি ও ধরন অপরিবর্তিত থাকলেও পরিচালকরা তাঁকে ভিন্ন ভিন্ন রূপে পর্দায় দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন, যার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ।
অভিনয়ের ক্ষেত্রে তিনি গতানুগতিক চরিত্রের চেয়ে বৈচিত্র্যময় এবং চ্যালেঞ্জিং চরিত্র বেছে নিতে পছন্দ করেন। তাঁর মতে, মানুষ আদতে পুরোপুরি ভালো বা খারাপ নয়, বরং ধূসর। তাই তিনি এমন সব চরিত্রে অভিনয় করতে আগ্রহী যেখানে মানুষের ইতিবাচক ও নেতিবাচক—উভয় গুণাবলির সংমিশ্রণ থাকে। চরিত্রের স্থায়িত্বের চেয়ে গভীরতাকে বেশি গুরুত্ব দেন তিনি। উদাহরণ হিসেবে তিনি 'সাপলুডু' সিনেমার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে মাত্র ১০ মিনিটের উপস্থিতিতেও চরিত্রের গভীরতা তাঁকে প্রবলভাবে আকর্ষণ করেছিল।
বর্তমানে তাঁর কাজের ব্যস্ততা বেশ লক্ষণীয়। রাজন তালুকদারের প্রথম চলচ্চিত্র 'জলপবন'-এর শুটিং সম্প্রতি সিলেটের হাওর অঞ্চলে শেষ হয়েছে। এই সিনেমায় তিনি 'নিরালা' চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তরুণ একদল চলচ্চিত্র শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং হাওর অঞ্চলের মানুষের জীবনযাপন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গল্প ফুটিয়ে তোলার প্রচেষ্টাকে তিনি সাধুবাদ জানিয়েছেন। এছাড়া তাঁর আরও চারটি সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে কৌশিক শঙ্কর দাশের 'দাফন', মাসুদ পথিকের 'বক', জাহিদ হোসেনের 'লীলামন্থন' এবং সন্দীপ বিশ্বাসের 'অসীমের পানে' উল্লেখযোগ্য। প্রথম তিনটি সিনেমার ডাবিং কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং একটি নতুন ওয়েব ফিল্ম নিয়ে আলোচনা চলছে।
নাটকের কাজ সম্পর্কে তিনি জানান, পুরোপুরি বন্ধ না করলেও তিনি এর পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। শারীরিক পরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, সন্তানের জন্মের পর তাঁর ওজন বৃদ্ধি পেয়েছিল, তবে স্বাভাবিক ওজনে ফেরার পর গত পাঁচ বছরে পরিচালকরা তাঁকে আরও বৈচিত্র্যময় চরিত্রে ভেবেছেন। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, ওজন ১০০ কেজি থাকলেও তিনি সমান আগ্রহ নিয়ে সব চরিত্রে অভিনয় করতেন।
অভিনেত্রী হিসেবে তাঁর চূড়ান্ত লক্ষ্য অনেক বেশি কাজ করা নয়, বরং অর্থপূর্ণ এবং বিশ্বাসযোগ্য চরিত্র ফুটিয়ে তোলা। তিনি মনে করেন, অতিরিক্ত কাজের চাপে চরিত্রের প্রতি সুবিচার করা সম্ভব হয় না। তাই তিনি বৈচিত্র্যময় চরিত্রের মাধ্যমে অভিনয়ের সার্থকতা এবং মানসিক আনন্দ খুঁজে পেতে চান। সুস্থ থাকা পর্যন্ত অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী।




