দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ লাওস বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ওয়ার্ক পারমিট, শ্রম প্রকল্প অনুমোদন এবং শ্রমিক আমদানির যাবতীয় পরিকল্পনা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। লাওসের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এই নির্দেশনা গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে এবং এটি ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। গত ৯ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এই আদেশ জারি করা হয়, যা পরবর্তীতে ১৪ সেপ্টেম্বর দেশটির ইংরেজি সংবাদমাধ্যম 'দ্য লাওশিয়ান টাইমস'-এর প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মানব পাচার, অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ, অননুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির দৌরাত্ম্য এবং বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের পর দায় এড়ানোর প্রবণতা বন্ধ করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষভাবে বাংলাদেশিদের জন্যই কেন এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো, তা নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। এ প্রসঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানেন না এবং বিস্তারিত খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই প্রায় ৩ হাজার বাংলাদেশি কর্মী লাওসে যাওয়ার জন্য ছাড়পত্র গ্রহণ করেছেন, যার ফলে এ বছরের গন্তব্য দেশগুলোর তালিকায় লাওস ১৩তম অবস্থানে রয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছর ৩ হাজার ৮৩৫ জন কর্মী সেখানে গিয়েছিলেন এবং তখন দেশটির অবস্থান ছিল ১৬তম। সাধারণত বাংলাদেশি শ্রমিকরা লাওসের নির্মাণ ও উৎপাদন খাতে নিয়োজিত থাকেন।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা নিয়োগকর্তা নিজস্ব উদ্যোগে কোনো বাংলাদেশি নাগরিককে নিয়োগ করতে পারবেন না। এমনকি ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশিদের জন্য শ্রমভিসা (LA-B2) অনুমোদনও বন্ধ থাকবে। তবে লাওস সরকার অনুমোদিত বড় অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলো, যেখানে কাজের সময়সূচি চুক্তিতে নির্ধারিত থাকে, সেগুলো এই স্থগিতাদেশের আওতাভুক্ত হবে না।

আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে। অনুমোদনহীনভাবে শ্রমিক নিয়োগ করলে প্রতি শ্রমিকের জন্য নিয়োগকর্তাকে ২৫ লাখ লাও কিপ (প্রায় ১১০ মার্কিন ডলার) জরিমানা দিতে হবে। একইভাবে অন্য ইউনিটে শ্রমিক বদলি করলেও একই পরিমাণ জরিমানা কার্যকর হবে। আর যদি কোনো শ্রমিককে নির্ধারিত কর্মস্থলের বাইরে কাজে ব্যবহার করা হয়, তবে নিয়োগকর্তার জরিমানা হবে ২০ লাখ লাও কিপ (প্রায় ৮৯ মার্কিন ডলার)।

শ্রমিকদের জন্যও শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। নির্ধারিত কর্মস্থলের বাইরে কাজ করলে শ্রমিককে ১০ লাখ লাও কিপ (প্রায় ৪৪ মার্কিন ডলার) জরিমানা করা হবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। এই প্রত্যাবাসনের যাবতীয় খরচ নিয়োগকর্তাকেই বহন করতে হবে। এছাড়া নিয়ম অমান্য করলে ব্যবসার লাইসেন্স বাতিল এবং অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে জরিমানার পরিমাণ তিনগুণ করার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে লাওসে কতজন বাংলাদেশি কর্মরত আছেন বা এই নিষেধাজ্ঞায় কোন খাতগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।