দেশের ঘরোয়া ফুটবলের আসন্ন মৌসুমে বিদেশি খেলোয়াড়দের তালিকায় চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন এসেছে। এবার সাফ অঞ্চলের খেলোয়াড়দের, বিশেষ করে নেপালের ফুটবলারদের প্রতি ক্লাবগুলোর আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। খেলোয়াড় নিবন্ধনের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বিদেশি ও সাফ কোটা মিলিয়ে মোট ৬৫ জন ভিনদেশি ফুটবলার এবার নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে সাফ কোটার ১৯ জনের ১৪ জনই নেপালের নাগরিক, যা গত মৌসুমের তুলনায় সাতজন বেশি। গতবার সাফ কোটায় নিবন্ধিত ১১ জনের মধ্যে আটজন ছিলেন নেপালি।
নিবন্ধনের নিয়মেও এসেছে পরিবর্তন। গত মৌসুম থেকে সার্কভুক্ত দেশগুলোর খেলোয়াড়রা ঘরোয়া লিগে 'স্থানীয় খেলোয়াড়' হিসেবে সুবিধা পাচ্ছেন। প্রথমবার সাফ কোটায় সর্বোচ্চ পাঁচজন খেলোয়াড় নেওয়ার বিধান থাকলেও এবার স্থানীয় খেলোয়াড়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তা কমিয়ে তিনজন করা হয়েছে। তবে কোটা কমলেও এই অঞ্চলের ফুটবলারদের সংখ্যা বেড়েছে। গত মৌসুমে লিগে ক্লাব ছিল ১০টি, এবার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩টিতে। এর মধ্যে নয়টি ক্লাব সাফ কোটার খেলোয়াড় নিয়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হলো লিগ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের সিদ্ধান্ত। গত মৌসুমে সাফ কোটায় কোনো খেলোয়াড় না নেওয়া দলটি এবার তিনজন নেপালি ফুটবলারকে দলে ভিড়িয়েছে। তারা হলেন নেপাল জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড অঞ্জন বিস্তা, মানিশ দাঙ্গি এবং ডিফেন্ডার রহিত চাঁদ। কিংস তাদের পুরোনো ব্রাজিলিয়ান তারকা রবসন রবিনহোকে ফিরিয়ে এনেছে, সাথে নতুন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড জেসুস দা সিলভা ও নাইজেরিয়ার ফরোয়ার্ড ওবুগহ এমেকাকে। দেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে তপু বর্মণ, বিশ্বনাথ ঘোষ, রাকিব হোসেন, মোহাম্মদ হৃদয়, তাজ উদ্দিন, সোহেল রানা, নাবিব নেওয়াজ ও মেহেদী হাসান দলটিতে বহাল রয়েছেন।
অন্যদিকে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব সাফ কোটায় কাউকে নেয়নি। বিদেশি কোটায় তারা মালির স্ট্রাইকার সুলেমান দিয়াবাতেকে ফিরিয়ে এনেছে, সাথে নাইজেরিয়ার দুই ফুটবলার এবং উজবেকিস্তানের মোজাফফরভকে ধরে রেখেছে। ফর্টিস এফসি, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স, রহমতগঞ্জ ও চট্টগ্রাম সিটি ক্লাব প্রত্যেকে দুজন করে নেপালি খেলোয়াড় নিবন্ধন করেছে। ব্রাদার্স ইউনিয়ন, সিটি ক্লাব ও পিডব্লিউডি নিয়েছে একজন করে। পাকিস্তানের চারজন খেলোয়াড়ের মধ্যে দুজন ব্রাদার্সে, একজন ঢাকা আবাহনীতে এবং আরেকজন সিটি ক্লাবে খেলবেন।
শ্রীলঙ্কার জাতীয় দলের গোলকিপার সুজন পেরেইরা এবারও ফর্টিসের জার্সিতে দেখা যাবে। দলটিতে যোগ দিয়েছেন নেপালের মিডফিল্ডার আরিক বিস্তা ও ডিফেন্ডার অনন্ত তামাং। এছাড়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জাপানি ফরোয়ার্ড সুকি ইতোফুসোও ফর্টিসে নাম লিখিয়েছেন। ঢাকা আবাহনী দলবদলের শেষ মুহূর্তে সাফ কোটায় পাকিস্তানের মিডফিল্ডার মইন আহমেদকে নিশ্চিত করেছে। বিদেশি কোটায় আবাহনী নিয়েছে নাইজেরিয়ার চার ফুটবলার, যাদের মধ্যে ২০১৪ বিশ্বকাপ খেলা মাইকেল বাবাতুন্দে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। ব্রাদার্স ইউনিয়ন সাফ কোটায় নিয়েছে পাকিস্তানের মাহমুদ আলী ওজায়ের, সাইদ আলী রাজা এবং নেপালের ফরোয়ার্ড সাকাল রেগমিকে। জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া গোপীবাগের দলটিতে থেকে গেছেন।
ঢাকা ওয়ান্ডারার্স সাফ কোটায় নেপালের দুই গোলকিপার সৌরভ বিক্রম কারকি ও মিডফিল্ডার যুবরাজ ডাকালকে দলে টেনেছে। নবাগত চট্টগ্রাম সিটি ফুটবল ক্লাব নিয়েছে নেপালের মিডফিল্ডার আশীষ সোনম ও ডিফেন্ডার দিবাকর চৌধুরীকে। আরেক নবাগত সিটি ক্লাবের দলে রয়েছেন পাকিস্তানের ফরোয়ার্ড শায়েক দোস্ত ও নেপালের ডিফেন্ডার যোগেশ গুড়ং। রহমতগঞ্জে এসেছেন নেপাল জাতীয় দলের ডিফেন্ডার অভিষেক লিম্বু ও মিডফিল্ডার কুশাল দেউবা।
নেপালি ফুটবলারদের প্রতি এত আগ্রহের কারণ ব্যাখ্যা করে জাতীয় দলের সাবেক স্ট্রাইকার জাহিদ হাসান এমিলি বলেন, নেপালের খেলোয়াড়দের তুলনামূলক কম পারিশ্রমিকে পাওয়া যায়, আবার নিজেদের দেশের চেয়ে বাংলাদেশে তারা বেশি আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে উভয় পক্ষই এই বন্দোবস্তে সন্তুষ্ট। এবারের খেলোয়াড় তালিকায় চমকপ্রদ কিছু দেশের উপস্থিতিও রয়েছে। ওয়ান্ডারার্স দলে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ফরোয়ার্ড বাইলে জন ও ইন্দোনেশিয়ার ফরোয়ার্ড আইদিল উসমান দাইরাকে। ব্রাদার্সে যোগ দিয়েছেন আয়ারল্যান্ডের ডিফেন্ডার উইলিয়াম ওদুয়া, আর পিডব্লিউডিতে জার্মানির ডিফেন্ডার উলরিচ বালোকি।




