বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করে স্বাক্ষরিত হয়েছে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত বিশেষ চুক্তি 'ইএসডিপি-এমওসি' (মেমোরেন্ডাম অব কো-অপারেশন অন এমপ্লয়মেন্ট স্কিলস ডেভেলপমেন্ট)। সোমবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। এই চুক্তির ফলে আগামী বছরের ১ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ থেকে জাপানে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে।
চুক্তিটির প্রাথমিক মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ বছর। তবে এই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও পাঁচ বছরের জন্য বর্ধিত হবে, যার ফলে চুক্তির মোট মেয়াদ হবে ১০ বছর। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং জাপান সরকারের প্রায় এক বছর ধরে চলা দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা ও প্রচেষ্টার পর গত শনিবার এই চুক্তিতে চূড়ান্ত স্বাক্ষর করা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জাপানের পক্ষ থেকে আইন মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির প্রতিনিধিরা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমান সরকারের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বাড়ানোর প্রচেষ্টায় এই চুক্তিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরের সময় উভয় পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তির কপি বিনিময় করা হবে। এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের মাধ্যমে জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য অভূতপূর্ব সুযোগ এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চুক্তিটির বিশেষ সুবিধা সম্পর্কে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, কর্মী প্রেরণ ও গ্রহণের ক্ষেত্রে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও দৃঢ় হবে এবং কর্মীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, যা তাদের উচ্চ বেতন এবং জাপানে দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের পথ প্রশস্ত করবে।
চুক্তির শর্তানুযায়ী, বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানের স্থানীয় শ্রমিকদের মতো সমান আইনি সুরক্ষা পাবেন। কর্মক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের জন্য সমান সুযোগের কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে নারী কর্মীদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে; গর্ভাবস্থা বা সন্তান জন্মদানের কারণে কোনো নারী কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা যাবে না বা তার প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না। এছাড়া, সন্তান প্রসূতির কারণে কোনো কর্মীকে জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানোর কোনো বাধ্যবাধকতা এই চুক্তিতে রাখা হয়নি।




