নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় সিরিজ ‘দ্য এক্স-ফাইলস’-এর সেই চিরচেনা ট্যাগলাইন ‘আই ওয়ান্ট টু বিলিভ’ আজও অনেকের মনে গেঁথে আছে। ভিনগ্রহের প্রাণী বা এলিয়েনের অস্তিত্বের কোনো অকাট্য প্রমাণ না মিললেও, আকাশে অদ্ভুত আলো বা উড়ন্ত চাকতি দেখলে মানুষের উত্তেজনা বেড়ে যায়। এক সময় যেগুলোকে ইউএফও (UFO) বলা হতো, বর্তমানে সেগুলোকে বলা হচ্ছে ইউএপি (UAP) বা ‘আনআইডেন্টিফায়েড অ্যানোমালাস ফেনোমেনা’। মার্কিন সরকারও এখন এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ‘পারস্যু’ (PURSUE) প্রজেক্টের আওতায় ১৯৫০ সাল থেকে সংগৃহীত শত শত গোপন নথি প্রকাশ করা শুরু করেছে তারা, যার পঞ্চম দফার ফাইল উন্মুক্ত করা হয়েছে গত ৭ আগস্ট।
মার্কিন সরকারের অফিসিয়াল রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অ্যারো (AARO) নামক সংস্থা ৩১৯টি রহস্যময় ঘটনার রিপোর্ট পেয়েছে, যার মধ্যে ১১৪টি শেষ পর্যন্ত সাধারণ ড্রোন, স্যাটেলাইট, পাখি বা বেলুন হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের জন্য নির্দিষ্ট সংস্থা হিসেবে কাজ করে নুফর্ক (NUFORC) এবং মুফন (MUFON)। চলতি বছর নুফর্কে ১ হাজার ৮০০টির বেশি রিপোর্ট জমা পড়েছে, যা ২০২০ সালে ৮ হাজার ছুঁয়েছিল। এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে মানুষের চোখের ভুল অথবা রহস্যময় বস্তুর আনাগোনা উভয়ই বাড়ছে।
যদি কখনো আপনি আকাশে এমন কোনো রহস্যময় বস্তু দেখতে পান, তবে উত্তেজনায় দিশেহারা না হয়ে নিচের ৭টি পদক্ষেপ অনুসরণ করতে পারেন:
প্রথমত, সম্পূর্ণ শান্ত থাকুন। প্রথমেই এলিয়েনের কথা ভেবে আতঙ্কিত না হয়ে চিন্তা করুন আপনার আশেপাশে কোনো বিমানবন্দর আছে কি না অথবা উলকাপাতের সময় চলছে কি না। অনেক সময় সাধারণ ড্রোনকেও ভুল করে ভিনগ্রহের যান মনে হতে পারে। দ্বিতীয়ত, একজন গোয়েন্দার মতো প্রমাণ সংগ্রহ করুন। ফোনের মাধ্যমে ছবি ও ভিডিও তোলার পাশাপাশি নাসার পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু তথ্য লিখে রাখুন—যেমন স্থানীয় সময়, আপনার অবস্থান, বস্তুটির গতিবেগ, কোন দিকে যাচ্ছিল এবং আকাশের নক্ষত্রের তুলনায় তার উজ্জ্বলতা কেমন ছিল।
তৃতীয়ত, স্থানীয় জ্যোতির্বিজ্ঞান বা অ্যাস্ট্রোনমি ক্লাবের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। যুক্তরাষ্ট্রে নাসার নাইট স্কাই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এসব ক্লাবের খোঁজ পাওয়া যায়, একইভাবে বাংলাদেশেও বিভিন্ন জ্যোতির্বিজ্ঞানী বা অ্যাসোসিয়েশনের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। চতুর্থত, ‘স্টেলারিয়াম’ (Stellarium) অ্যাপ বা ওয়েবসাইট ব্যবহার করে আপনার মাথার উপরের আকাশের একটি ভার্চুয়াল ম্যাপ তৈরি করুন এবং মিলিয়ে দেখুন ওই সময়ে সেখানে কোনো গ্রহ বা নক্ষত্র ছিল কি না।
পঞ্চমত, ‘FlightAware’ বা ‘Flightradar24’ অ্যাপের সাহায্যে যাচাই করুন কোনো বিমান আপনার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছিল কি না। বিশেষ করে ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইটগুলো ট্রেনের মতো সারিবদ্ধভাবে চলে, যা অনেক সময় এলিয়েন যান বলে ভুল হতে পারে। ষষ্ঠত, টেক-স্যাভি হলে নৌবাহিনীর জন্য তৈরি ‘সাইটরেক’ (Siterec) অ্যাপ ব্যবহার করে আপনার ভিডিওটি আপলোড করুন এবং ভার্চুয়াল আকাশের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। সবশেষে, যদি সব যাচাইয়ের পরও মনে হয় এটি সত্যিই কোনো ইউএপি, তবে NUFORC, MUFON অথবা Enigma অ্যাপের মাধ্যমে রিপোর্ট করুন। মুফন অ্যাপের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে তারা তদন্তকারী পাঠাতে পারে। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি শেয়ার করে দেখতে পারেন অন্য কেউ একই অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন কি না।




