অভিনেত্রী সাদনিমা বিনতে নোমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শোবিজ অঙ্গনে তিনি কেবল নিজের পেশাগত দায়িত্ব নিয়েই ব্যস্ত থাকতে চান। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তারকা ইমেজ বা খ্যাতি তার জীবনযাপনে কোনো প্রভাব ফেলেনি; এখনো পুরোনো বন্ধুদের সাথে পরিচিত দোকানে আড্ডা দেওয়ার অভ্যাস রয়ে গেছে। শুটিং না থাকায় শুক্রবারের ছুটির দিনটিতে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারের পাশাপাশি পরিবার-পরিজনকে সময় দেন তিনি।
চলতি মাসে সাদনিমার একাধিক নাটক ইউটিউবে উন্মুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া রুবেল আনুশ নির্মিত 'মনডুবি' নাটকে তাঁর চরিত্র 'নয়না' দর্শকদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নাটকটিতে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছেন ঘনিষ্ঠ সহশিল্পী খায়রুল বাসার। এই জুটির রসায়ন এরই মধ্যে দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। সাদনিমার ভাষ্যে, খায়রুল বাসারের সাথেই তাঁর কাজের যাত্রা শুরু, ফলে দুজনের মাঝে চমৎকার বোঝাপড়া রয়েছে এবং তাঁর সঙ্গে কাজ করে তিনি ভীষণ স্বস্তি বোধ করেন।
বিনোদন জগতে অনস্ক্রিন জুটির জনপ্রিয়তা প্রায়শই ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে জল্পনার জন্ম দেয়। সাদনিমা স্বীকার করেছেন, তিনি নিজেও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। তবে তিনি সব সময়ই এ ধরনের গুঞ্জন থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলেন। অভিনেত্রীর দৃঢ় মনোভাব, 'আমি এখানে কেবল অভিনয়ের জন্য এসেছি, বর্তমানে আমার পূর্ণ আত্মনিয়োগ কাজেই।' দর্শকরা যখন কোনও জুটির কাজ পছন্দ করেন, তখন তারা নানা ধারণা তৈরি করেন জানিয়ে সাদনিমা বিনীতভাবে পরামর্শ দেন, গুজবে কান না দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
'মনডুবি'র গল্পে নয়না হলো মফস্বলের এক সহজ-সরল তরুণী, যার সবচেয়ে বড় অহংকার তার ঘন ও লম্বা চুল। সে স্বপ্ন দেখে কোনও বড় বিজ্ঞাপনীচিত্রে তার চুল দেখা যাবে। বিপরীত দিকে খায়রুল বাসারের চরিত্রটি শিক্ষিত হয়েও বৃত্তির খাতিরে চুলের তেল ফেরি করে এবং ক্রেতা আকৃষ্ট করতে অতিরঞ্জনের পথ নেয়। ঘটনাচক্রে উভয়ের সাক্ষাৎ ঘটে এবং নয়নার স্বপ্ন এক বাঁকের মুখোমুখি হয়। নাটকটির সবচেয়ে চর্চিত দিক হলো সাদনিমার ন্যাড়া মাথার লুক। এই দৃশ্যের জন্য তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কৃত্রিম রূপসজ্জা চলে। ঘন চুলের অধিকারী সাদনিমা জানান, পুরো রূপান্তরের পর আয়নায় নিজেকে দেখে তিনি বিস্ময় বিহ্বল হয়ে পড়েন। যেসব নারীরা বিভিন্ন কারণে মাথার চুল হারান, সেই মুহূর্তে তাদের কষ্ট তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করছিলেন।
ছোট পর্দার সমান্তরালে, 'রাক্ষস' চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় পদচিহ্ন রেখেছেন সাদনিমা। এই বাণিজ্যিক সিনেমাটির প্রস্তাব পেয়ে শুরুতে তিনি দ্বিধাগ্রস্থ ছিলেন এবং এক সপ্তাহ চিন্তা করেছিলেন। তবে পরে গল্পে চরিত্রের প্রভাব বিবেচনা করে কাজটি গ্রহণ করন এবং এখন এটিকে সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন। কারণ ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর তিনি যথেষ্ট ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন। পাশাপাশি, বর্তমানে একটি তথ্যচিত্র নিয়েও প্রাথমিক কথাবার্তা চলছে তার, যেখানে গল্প ও চরিত্র দুটিই অত্যন্ত চমৎকার।



