আগামী ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দীর্ঘ সিলেবাস থেকে পরীক্ষা হবে পুরো পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তুতিকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে। এই পরীক্ষায় ভালো ফল অর্জনের জন্য নির্ভরযোগ্য প্রস্তুতি ও কার্যকর কৌশলের কোনো বিকল্প নেই। সম্প্রতি বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের প্রভাষক শাহরীন খান পরীক্ষার্থীদের জন্য একটি দিকনির্দেশনামূলক প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছেন, যেখানে উত্তরণের পথ তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে অধ্যায়ভিত্তিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ভেক্টর অংশটিতে ভেক্টর বিভাজন—সামান্তরিক সূত্র, নৌকা ও নদীর সমস্যা এবং বৃষ্টির বেগ নির্ণয়—অত্যন্ত জরুরি। ভেক্টরের বীজগণিত ও ক্যালকুলাসও গুরুত্ব সহকারে পড়তে হবে। নিউটনীয় বলবিদ্যা অধ্যায়ে সংঘর্ষ, জড়তার ভ্রামক, কৌণিক ভরবেগ, টর্ক, কেন্দ্রমুখী বল ও ব্যাংকিং থেকে প্রায়শই প্রশ্ন আসে। কাজ, ক্ষমতা ও শক্তি অধ্যায়ে কর্মদক্ষতা, পাম্প ও কুয়ার গাণিতিক সমস্যা, হেলানো তল এবং শক্তির নিত্যতার সূত্র বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মহাকর্ষ ও অভিকর্ষ অধ্যায়ে অভিকর্ষজ ত্বরণের পরিবর্তন, মুক্তি বেগ ও কৃত্রিম উপগ্রহ নির্ণয় সংক্রান্ত গণিত বারবার আসে। পদার্থের গাঠনিক ধর্মে স্থিতিস্থাপক গুণাঙ্ক ও পয়সনের অনুপাত, পর্যায়বৃত্ত গতিতে সরল দোলকের বিভিন্ন উচ্চতা, স্প্রিংয়ের গতি ও পর্যায়কাল এবং আদর্শ গ্যাস ও গ্যাসের গতিতত্ত্ব অধ্যায়ের আদর্শ গ্যাস সমীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অধ্যায়ই বাদ দেওয়া ঠিক হবে না বলেও উল্লেখ করেন শিক্ষক।
প্রস্তুতি পদ্ধতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, বিগত সালের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চিহ্নিত করা সহজ। বইয়ের পেছনে দেওয়া বা অধ্যায়ের ভেতরের সংজ্ঞাগুলো বারবার মুখস্থ করতে হবে, কারণ প্রতিটি সংজ্ঞায় এক নম্বর থাকে, যা এ প্লাসের পথে অনেক মূল্যবান। অনুধাবনমূলক অংশের জন্য বইয়ের চিত্র ও ব্যাখ্যা ভালোভাবে বোঝার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সূত্রগুলো টেবিলের সামনে টাঙিয়ে রাখা এবং প্রতিদিন চোখ বুলিয়ে নেওয়ার অভ্যাস করতে বলেছেন শিক্ষক। গাণিতিক সমস্যার সমাধানের জন্য অনুশীলনকেই সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে সৃজনশীল প্রশ্নের ‘গ’ ও ‘ঘ’ নম্বরে মোট সাত নম্বরের গাণিতিক সমস্যা থাকে, যা নিয়মিত চর্চা করলে সহজে সমাধান করা যায়।
প্রশ্নের মান বিভাজন ও সময় ব্যবস্থাপনার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। প্রতিটি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লেখার জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা, এমসিকিউয়ের জন্য প্রতি প্রশ্নে এক মিনিট রাখা এবং বাকি সময় রিভিশনের জন্য রাখার কৌশল শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াবে। শিক্ষকরা মনে করেন, সঠিক পরিকল্পনা, অধ্যবসায় এবং নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পদার্থবিজ্ঞানে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জনে সক্ষম হবে।




